বাংলাদেশে এ বার দুর্গাপুজো ঘিরে গত বারের তুলনায়উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেকটাই বেশি। উৎসবের দিন এবং তার পরে যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে প্রশাসন তৎপর। বাংলাদেশের নামকরা পুজো মণ্ডপগুলিতে চারস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকসেরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তবে পুজো কমিটি এবং সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির উদ্বেগ, উগ্রপন্থী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি তৎপর রয়েছে।
গত বছর মুহাম্মদ ইউনূস জমানায় প্রতিমা ভাঙা ‘কার্যত উৎসবে’ পরিণত হয়েছিল। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। বাংলাদেশের পুজো উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানান, দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পুজো হচ্ছে। এর মধ্যে ঘট পুজোও রয়েছে। গত বারের তুলনায়দেড়শো পুজো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসুদেব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গাপুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ছিলেন তিন বাহিনী-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসারেরা। কমিটির সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করেন পুলিশের আইজি। নিরাপত্তার কাজে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আনসার বাহিনীকে। গোয়েন্দা নজরদারিরও ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
সরকারি নজরদারির মধ্যেও অপ্রীতিকর ঘটনা যে একেবারেই ঘটেনি তা নয়। ঝিনাইদহেদুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘুসংগঠন সূত্রের খবর, পাঁচ জায়গায় মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্রকুমার নাথের কথায়, ‘‘পরিস্থিতি গত বারের থেকে ভাল। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদীরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জামাত, ১১ দলীয় জোট-সহ বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হিন্দু ধর্মবিরোধী বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও বিভাজনমূলক কথা বলে যাচ্ছে।’’