বাঙালি যেখানেই থাকুক, নিজের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে বাঁচে। সেই প্রতিফলন দেখা যায় প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গাপুজোয়। নিষ্ঠাভরে পুজো থেকে জমাটি উদযাপন, সবেতেই অনুভব করা যায় শিকড় ছুঁয়ে থাকার টান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বে এরিয়া সানফ্রান্সিস্কোতেও পুজো নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। দুর্গাপুজোর উৎসব এখানে পালিত হয় তিন সপ্তাহ ধরে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে প্রায় তিরিশটির বেশি পুজো হয় এখন। তার মধ্যে বে এরিয়া প্রবাসী দুর্গাপুজোটির বয়স পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে।
সারা বে এরিয়া থেকে মানুষের ঢল নামে এই মণ্ডপে। প্রতি বছরের মতো তিন দিন ব্যাপী মহাভোজের আয়োজন হয়েছে এ বারও। সঙ্গে ছিল অঞ্জন দত্ত আর মোনালি ঠাকুরের জমজমাট কনসার্ট।
এ ছাড়াও এই পুজোর কর্ণধারেরা পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান বাংলা সাহিত্যের ঐশ্বর্য। তাই প্রতি বারই তাঁরা মঞ্চস্থ করেন নাটক। এ বছরও তার অন্যথা হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ অবলম্বনে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘জ্যোতির্গমায়া’। নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় ছিলেন বে এরিয়া প্রবাসীর সদস্য পিঙ্কি দাস। মূল নাটকের ভাবনা বজায় রেখেই এই নাটকটি তৈরি হয়েছে রবি ঠাকুরকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে। যারা বিদেশের মাটিতে জন্মেছে এবং বড় হচ্ছে, তারা যেন নিজেদের শিকড়টা চিনতে পারে, ভুলে না যায় এবং ধরে রাখে— তার জন্যই এই প্রচেষ্টা।
এই নাটকটি চিরাচরিত নৃত্যনাট্যর থেকে অনেকটাই আলাদা। পঁয়তাল্লিশ জন কলাকুশলী অভিনয় করেছেন, বয়সসীমা ছিল চার থেকে চল্লিশ। পাঁচ মাস ধরে চলেছে মহড়া। নাটকের সব কিছু, মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা, পোশাক— সবই করেছেন তাঁরা নিজেরাই। ঠিক যেন বাংলার কোনও শহরের পাড়ায় দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান!
সব মিলিয়ে পুজো উপলক্ষে বে এরিয়া-র প্রবাসী বাঙালিরা ফিরে পেয়েছেন ফেলে আসা কলকাতার স্বাদ। বরাবরের মতোই।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।