সারা বছর খাওয়াদাওয়ার দেদার অনিয়ম। কিন্তু দোরগোড়ায় পুজো এলেই মাথায় হাত! মেদ ঝরিয়ে পছন্দের পোশাকে ‘ফিট’ হতে হবে বইকি! কাজেই নিজের কাঙ্ক্ষিত চেহারায় ফিরতে তোড়জোড়ও শুরু এখন থেকেই। পুজো তো প্রায় এসেই গেল। হাতে আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ, এর মধ্যেও কি ঘরোয়া ডায়েটে মেদ ঝরানো সম্ভব? আজ্ঞে হ্যাঁ। তবে এক মাসে ১০ কেজি ওজন কমানো বাস্তবসম্মত না হলেও পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইচ্ছে থাকলে সঠিক উপায় বেরোবেই। কী ভাবে? টিপ্স দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ রেশমি রায়চৌধুরী।
ডিটক্স ওয়াটারেই কেল্লাফতে
বলা হয়, ‘জলই জীবন’! শরীর সুস্থ রাখতে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদান আর কী-ই বা হতে পারে? রেশমি জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অন্তত সাড়ে তিন লিটার জল পান করা আবশ্যক। তিনি বলেন, “প্রতিদিন সকালে একটি ‘ডিটক্স ওয়াটার’ পান করা যেতে পারে। এর জন্য বিশেষ কিছুই করতে হবে না। একটি বড় বোতলে এক লিটার জল, তার মধ্যে চার থেকে পাঁচটি পরিষ্কার গোলাপের পাপড়ি, এক চামচ মৌরী এবং একটি কমলালেবুকে খোসা-সহ গোল গোল করে কেটে ভিজিয়ে রাখতে হবে এক থেকে দুই ঘণ্টা। এ বার সেই জলটাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটু একটু করে খেলে চোখের নিমেষে এক লিটার জল শেষ হয়ে যাবে। এতে এনার্জিও আসবে আর ত্বকের জৌলুসও বাড়বে।”
‘টোনড’ চেহারা কী ভাবে?
পুজোর আগে চটজলদি ওজন কমানো বিজ্ঞানসম্মত নয় ঠিকই। কিন্তু ‘টোনড’ চেহারা পেতে সামান্য কিছু অভ্যাসের বদলই যথেষ্ট। রেশমি বলেন, “রাতের খাবার থেকে একেবারেই বাদ দিতে হবে কার্বোহাইড্রেট। যদিও কতটা বাদ দেবেন, তা নির্ভর করছে ওজনের উপরে। কেউ খুব বেশি রোগা হলে তাঁর জন্য পুরোপুরি শর্করা ত্যাগ হিতে বিপরীত হতে পারে।” তিনি আরও জানান, প্রতিদিনের ডায়েটে যোগ করতে হবে প্রোটিন। দু’বেলাই মাছ খাওয়া গেলে ভাল। এই সময়ে মাংসের তুলনায় মাছ অনেক বেশি উপকার দেবে।”
সকালের জল খাবারে থাক টকদই। পুষ্টিবিদ রেশমির মতে, এই আবহাওয়ায় শরীরে সংক্রমণের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এটি। কেউ দই না খেলে, সে ক্ষেত্রে সেদ্ধ ডিম হতে পারে দারুণ বিকল্প। রেশমি বলেন, “রাতের খাবারের ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যেন মোটামুটি ভাবে পুষ্টির সব উপাদানই পায় শরীর। খেতে পারেন ভাত বা রুটি, তার সঙ্গে থাকবে সব্জি, মাছ বা মাংস। তবে সব কিছুই পরিমাণমতো।” সারাদিনের খাদ্যাভ্যাসে একটি করে ফল থাকা আবশ্যক। রেশমি জানান, ফলের ঝুড়িতে পেঁপে থাকলে খুব ভাল। এটি চুল আর ত্বক, উভয়কেই ভাল রাখে।
ডায়েট নিয়ে আপস নয়!
এ তো গেল পুজোর আগাম প্রস্তুতি। পুজোর দিনগুলিতে প্রায় সবকিছুই বিশ বাঁও জলে! সেই সময়ে কী ভাবে বজায় রাখবেন নিজের ডায়েট? রেশমির কাছে আছে সেই উপায়ও। তাঁর কথায়, “পুজোর সময়ে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করা একটু দুষ্কর। যদিও পুজোর সকালে খালি পেটে অঞ্জলি দিয়ে প্রসাদ খাওয়া যেতেই পারে। এতে অনেকটা ফল খাওয়া হয়ে যাবে। অন্য দিকে যদি অনেকক্ষণ না খেয়ে কাটানোর মতো পরিস্থিতি আসে, তা হলে সঙ্গে কিছু খেজুর রাখতে পারেন।” ডায়েট মানে কিন্তু নবমীর পাঁঠার মাংস নিয়ে আপস নয়! বাদ দিতে হবে না অষ্টমীর লুচি-আলুরদমও। তবে রেশমির মতে, “সে ক্ষেত্রে সকালের প্রসাদে খুব বেশি মিষ্টি এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। পাশাপাশি যদি দুপুরে মহাভোজের পরিকল্পনা থাকে, তা হলে প্রাতরাশে লেবু, আপেল বা পেয়ারার মতো কিছু ফল রাখা যেতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, খুব বেশি ভাজাভুজি বা ফুচকা খেয়ে পেট ও ক্যালোরি ভরানোর চেয়ে ভরপেট বিরিয়ানি খাওয়া অনেক বেশি শ্রেয়।
তবে, সারাদিনের ঘোরাঘুরির মধ্যে যেন জলের পরিমাণে না ঘাটতি পড়ে! এর জন্য সঙ্গে রাখতেই পারেন জলের বোতল। উপরন্তু সেই জলের মধ্যে সামান্য লেবুর রস ও নুন মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ‘ডিটক্স ওয়াটার’। অর্থাৎ পুজো মানেই কিন্তু খাওয়াদাওয়ায় আপস নয়। সঠিক কিছু বিষয় মাথায় রাখলেই মিলতে পারে হাতেনাতে ফলাফল।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।