দীপাবলির আমেজ আসতে না আসতেই আকাশও যেন তার রূপ পাল্টায়। কোথাও বাজির ঝলকানি, তো কোথাও উঁকি দিচ্ছে উষ্ণ আলো-বেলুন। নীচে জ্বলছে ছোট্ট অগ্নিকুণ্ড। বহু শতাব্দী ধরে এই বেলুন বেশ পরিচিত মানুষের কাছে। সহজ নাম ‘ফানুস’। আগুনের শিখা খোলের ভিতরের বাতাসকে উত্তপ্ত করে বাতাসে ভাসিয়ে রাখে বেলুনগুলিকে। যত ক্ষণ আগুন জ্বলতে থাকে, তত ক্ষণই এটি ভেসে থাকে শূন্যে। আগুন নিভে গেলেই ‘মৃত্যু’!
বিপজ্জনক হলেও ফানুস ছাড়া যেন দীপাবলি অসম্পূর্ণ! ইতিমধ্যেই দোকানে দোকানে তা কেনার হিড়িক। চাইলে কিন্তু বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন মনের মতো আকাশলন্ঠন। কী ভাবে? রইল সহজ পদ্ধতি।
উপকরণ-
টিস্যু বা খুব পাতলা কাগজ
আঠা
রং-তুলি
পাতলা তার
বাঁশের পাতলা কঞ্চি
কাঁচি
ছুরি
তার কাটার যন্ত্র
পদ্ধতি
প্রথমে চারটি বড় কাগজকে একটি আর একটির উপরে একসঙ্গে রাখুন। এর পরে লম্বালম্বি দুই ভাঁজ করুন। এ বার কাঁচি দিয়ে ফানুসের আকৃতি অনুযায়ী কেটে নিন।
এর পরে কাগজের ভাঁজ খুলুন। পাওয়া যাবে চারটি বড় আকারের ঘন্টা আকৃতির কাগজ। এই চারটি কাগজকে একটি আর একটির সঙ্গে আঠা দিয়ে সেঁটে দিন। এমন ভাবে জুড়বেন, যেন বেলুন আকৃতির মতো হয়।
হাতের কাছে বাঁশের কঞ্চি আছে তো? কাগজের যে পাশে খোলা আছে, সেই পাশের মাপ অনুযায়ী একটি গোলাকার চাকতি মতো তৈরি করুন তা দিয়ে। এ বার একটি পাতলা তার দিয়ে তাতে একটি মোমবাতি যুক্ত করুন। পরিবর্তে অন্য যে কোনও দাহ্য বস্তুও ব্যবহার করতে পারেন।
মনে রাখবেন, ফানুসের খোলা মুখটি যেন ১০-৩০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত হয়। এর পরে বাঁশের চাকতিটি কাগজের সঙ্গে জুড়ে দিন। ব্যস! তৈরি হয়ে গেল ফানুস। এ বার সাবধানে আগুন দিয়েই ভাসিয়ে দিন শূন্যে। তবে অবশ্যই ফানুস ওড়ানোর সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা শুকনো গাছপালার সামনে ফানুস না ওড়ানোই শ্রেয়।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।