কথায় বলে মন ভাল তো, সব ভাল। কিন্তু শরীর যদি সঙ্গ না দেয় তাহলে?পুজোর ওই চার দিন মন ভাল রাখার সঙ্গে পেটের আরামের কি কোনও সম্পর্ক আছে? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নিশ্চয়ই। পেট যদি ঠিক না থাকে, তবে মনমেজাজও বিগড়ে যেতে বাধ্য। উৎসবের ক’দিন দেদার খানাপিনায় গ্যাস-অম্বলে কাহিল হয়ে যাতে সব মাটি না হয়, সে বিষয়েই সতর্ক করছেন নিউরো-গ্যাস্ট্রোএনট্রোলজিস্ট উদয় কুমার ঘোষাল।
তাঁর কথায়, "পেট আসলে মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক। পেটের স্নায়ুর সঙ্গে মনের যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড়। সাধারণ মানুষের সিংহভাগ অসুস্থতার শিকড় লুকিয়ে থাকে হজম ও গ্যাসের সমস্যায়।"
চিকিৎসকের দাওয়াই
মুড়িমুড়কির মতো গ্যাসের ওষুধ নয়: একটু অনিয়ম হলেই বাঙালির গ্যাসের বড়ি খাওয়ার মারাত্মক প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, গ্যাসের ওষুধ স্থায়ী সমাধান তো নয়ই, উল্টে নিয়মিত খেলে শরীরে গ্যাস তৈরির প্রবণতা বাড়ে। অন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়। বদলে বেশি করে জল খান।
খেয়েদেয়ে হাঁটাচলা
খাওয়ার ঠিক পরেই গা এলিয়ে শুয়ে-বসে থাকা চলবে না। পর্যাপ্ত হাঁটাচলা হজমের প্রক্রিয়াকে সচল রাখে।
মেদ নিয়ন্ত্রণ
উৎসবের অনিয়ম সামাল দিতে পুজোর আগে থেকেই ওজন ও বাড়তি মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। উৎসবের দিনগুলোতে খানিক বেনিয়ম হলেও শরীর ঠিক সামলে নেব।
নেশায় লাগাম
উৎসবের মেজাজে অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান পেটের অ্যাসিড ক্ষরণ বাড়িয়ে বিপত্তি ডেকে আনে। যতটা সম্ভব বর্জন করে নিজেকে সুস্থ রাখুন।
উৎকণ্ঠামুক্ত মন
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, পেটের সমস্যার বড় কারণ মানসিক উদ্বেগ। মন উদ্বেগে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পেটের ওপর। ফলে এই ক’দিন দুশ্চিন্তা দূরে সরিয়ে উৎসবের আমেজ উপভোগ করাই আসল পথ্য।
পেট এবং মস্তিষ্কের স্নায়বিক যোগসূত্র অর্থাৎ ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন উদয় কুমার। তাই উৎকণ্ঠা নয়, এই পুজোয় চিকিৎসকের দাওয়াই মনের উপরেও থাকুর নিজের নিয়ন্ত্রণ। পুজোয় সুস্থ পেট নিয়ে উৎসবে মেতে উঠুন। থাকুন সুরক্ষিত, বেঁধে বেঁধে রাখুন পরিবারকেও।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।