পুজোর ক’দিন ডায়েটের কথা ভুলে গিয়ে মন খুলে খাওয়াই দস্তুর। সকালে লুচি-আলুর দম, দুপুরে কষা মাংস-ভাত, বিকেলে ফুচকা-রোল, রাতে আবার বিরিয়ানি— কখন যে কী খেয়ে ফেলছেন, তার হিসেব থাকে না। তার উপর কখনও দুপুরের খাবার বিকেলে, কখনও রাতের খাওয়াদাওয়া অনেক রাত করে। কয়েক দিনের এই অনিয়মেই পেট জানান দিতে শুরু করে— গ্যাস, অম্বল, বদহজম। সে এক ঝক্কি বটে!
পুজোর আনন্দে পেটের এই গোলমালকে সঙ্গী করতে না চাইলে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি সচেতন থাকুন। ঘরে থাকা কয়েকটি পরিচিত উপাদানেই মুক্তি পান জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে।
জোয়ান হতে পারে ভরসা
খাওয়ার পরে অল্প জোয়ান চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। জোয়ান হজমে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। পাতিলেবুর রস ও বিটনুন মিশিয়ে জোয়ান খাওয়া যেতে পারে। আবার রাতে জলে জোয়ান ভিজিয়ে রেখে পর দিন সেই জল ছেঁকে ফুটিয়ে খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত জোয়ান খাওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এলাচেও মিলতে পারে স্বস্তি
খাবারের পরে মুখশুদ্ধি হিসেবে এলাচ খাওয়ার চল তো রয়েছেই। এলাচ সুগন্ধী ছাড়াও হজমে সহায়ক। এলাচ গুঁড়ো করে জলে ফুটিয়ে সেই জল খেতে পারেন। তবে বেশি এলাচ খেলে অনেকেরই পেটে অস্বস্তি, বমিভাব দেখা দিতে পারে।
মৌরি রাখুন হাতের কাছে
খাওয়ার পরে মৌরি খাওয়ার অভ্যাসটি বেশ পুরনো। ভারী খাবারের পর অল্প মৌরি মুখশুদ্ধি হিসেবে খেতে পারেন। চাইলে মৌরি ভিজিয়ে রাখা জল বা মৌরির হালকা চা-ও খেতে পারেন। গর্ভাবস্থায় মৌরি খাওয়া কতটা নিরাপদ তা যাচাই করার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সকালে কলা খেতে পারেন
কলার খাদ্যগুণ অনেক। এতে পটাশিয়াম সহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই সকালে জলখাবারের সঙ্গে একটি কলা রাখা যেতে পারে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
আদা কিন্তু ধাঁধা নয়!
খাওয়ার পর অল্প আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। আদা হজমের সমস্যা ও বমিভাব কমাতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। তবে বেশি আদা খেলে উল্টে বুকজ্বালা হতে পারে।
পুজোর ক’দিন খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম এড়ান কঠিন। তবে একটু সচেতন থাকলে পেটের সমস্যা অনেকটাই এড়ান সম্ভব। একসঙ্গে অনেকটা খাবার না খেয়ে বার বার খান। রাতে জেগে ঠাকুর দেখুন, তবে রোলে কামড় বসানোর আগে শরীরকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। পর্যাপ্ত জল খান। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বার বার হলে শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।