Health Partner
Comfort Partner
Knowledge Partner

‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’-য় চোরবাগানে ১১ জনের মৃত্যু! কী এই রোগ? কোন উপায়ে মিলবে সমাধান? জানাচ্ছেন চিকিৎসক

ঠিক কী এই ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’? ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এমন ভিড়ের সম্মুখীন হলে কী ভাবেই বা বাঁচাবেন নিজেকে? সবটাই বিস্তারিত জানালেন ফুসফুস বিশেষজ্ঞ সুমিত সেন।

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৫৫
‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’র কারণেই মৃত্যু চোরবাগান-কাণ্ডে! কী এই রোগ?

‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’র কারণেই মৃত্যু চোরবাগান-কাণ্ডে! কী এই রোগ?

গত শনিবার চোরবাগান-কাণ্ডের ঘটনার রেশ বিশেষ ভুলতে পারেনি কেউই। মর্মান্তিক সেই সপ্তমীর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? কী ভাবেই বা মারা গিয়েছেন এতজন মানুষ? সম্প্রতি সবটাই উঠে এসেছে ময়নাতদন্তে। ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’ অর্থাৎ বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ এবং শ্বাসরোধের কারণে মৃত্যু। চোরবাগানের এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ এটিও। রিপোর্ট বলছে, প্রায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এতে। ঠিক কী এই ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’? ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এমন ভিড়ের সম্মুখীন হলে কী ভাবেই বা বাঁচাবেন নিজেকে? সবটাই বিস্তারিত জানালেন ফুসফুস বিশেষজ্ঞ সুমিত সেন।

আনন্দবাজার ডট কমের তরফ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে বুকে এবং শরীরের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। চোরবাগানের ঘটনায় যেমনটি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভিড়ের মধ্যে অনেকের প্যানিক অ্যাটাকও হয়ে থাকে। শারীরিক কোনও অসুস্থতা না থাকলে মৃত্যুর জন্য এটি দায়ী নয়। কিন্তু ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ার কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।”

তিনি বলেন, “মানুষের বুকের উপর কোনও ভারী বস্তু রেখে দিলে বা কাপড় নাক-মুখ চেপে ধরলে দু’মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। পদপিষ্টের ঘটনার ক্ষেত্রে একজন মানুষের উপর এতজন মানুষের ভর এলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হবে।”

তা হলে কী করণীয়? প্রবল জনজোয়ারে আটকে পড়লে প্রাথমিকভাবে কী ভাবে সামলানো যাবে নিজেকে? চিকিৎসক সুমিত সেন বলে দিলেন সেই উপায়ও।

প্রবল ভিড়ের সম্মুখীন হলে কী ভাবে বাঁচাবেন নিজেকে?

১। মাটিতে পড়ে আছাড় খাওয়া যাবে না কোনওভাবেই। সেখানেই কিন্তু বিপদ! ধাক্কাধাক্কি হলেও নিজের পায়ের ভর হারাবেন না। একবার মাটিতে পড়লেই পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২। ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে বেরোনোর পথ খুঁজুন। খোলা এবং বাতাসপূর্ণ জায়গায় গেলে অস্বস্তি অনেকটাই কমবে।

৩। শারীরিক কোনও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে না, অথচ প্যানিক অ্যাটাকের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শ্বাস ধরে রেখে এক থেকে পাঁচ গুণতে হবে ধীরে ধীরে। এর পর শ্বাস ছেড়ে দিতে হবে। বারবার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে অনেকটাই ধাতস্থ হওয়া যাবে।

৪। নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

এই প্রসঙ্গ ধরেই চিকিৎসক যোগ করেন, “আসলে প্যানিক অ্যাটাকের সময় আমাদের শরীরে অক্সিজেন খুব বেশি ঢুকতে পারে না। তুলনায় কার্বনডাই অক্সাইড বেশি পরিমাণে বেরিয়ে যায়। সেই কারণেই মাথা ঝিমঝিম করা, চোখে অন্ধকার দেখার মতো ঘটনা ঘটে। খুব জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। ভিড়ের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেও কিন্তু নিজেকে সামলানো কঠিন।"

এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy