ভোজনরসিক বাঙালি খাওয়াদাওয়ার জন্য সুযোগ খোঁজে। আর পুজো বা অনুষ্ঠান হলে তো কথাই নেই! খাবারের তালিকায় জায়গা করে নেয় নানা সুস্বাদু পদ। দুর্গাপুজোয় একেক দিন একেক রকম খাবারের আয়োজন। তার উপর এ বার সপ্তমী দু’দিন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলতে থাকে নানা স্বাদের পদ চেখে দেখার পালা। সারা বছর খাদ্যতালিকায় যে খাবারগুলি জায়গা পায় না, পুজোর দিনে সেগুলিও হয়ে ওঠে পাতে অবধারিত। তবে খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে দেখা দিতে পারে বদহজম, অম্বল বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা। এই ধরনের সমস্যা উপশমে কিছু ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগাতে পারেন।
এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মৌরির জল। হজমের সমস্যা হলে মৌরি চিবিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। খাওয়ার পরে মৌরি চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা কমতে পারে। বদহজম বা পেট ফাঁপার সমস্যা হলে মৌরি ভেজানো জলও খেতে পারেন।
রান্নাঘরে থাকা জিরেও এ ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন। জিরের মধ্যে রয়েছে থাইমল তেল, যা পাচক রস ও উৎসেচকের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। জিরে জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করতে পারেন।
বদহজম বা অম্বলের সমস্যা হলে ব্যবহার করতে পারেন লবঙ্গও। লবঙ্গ হাতে চিপে জলে দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তার পরে জল ছেঁকে লবঙ্গের টুকরোগুলি সরিয়ে পান করুন। লবঙ্গে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ফলে পেট ফাঁপা বা অম্বলের মতো সমস্যা উপশমে এটি সহায়ক হতে পারে।
আদা ভেজানো গরম জল কিংবা আদা চা-ও এ ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। এই দুই পানীয় পাকস্থলীর পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। ফলে বুকজ্বালা বা বদহজমের মতো সমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে পারেন।
এ ছাড়াও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে এলাচের জল খেতে পারেন। এলাচ গুঁড়ো করে জলে ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পরে সেই জল ছেঁকে পান করুন। এলাচের জল উৎসেচকের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। আর খাবার হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই উৎসেচকের।
খাওয়ার পরে হালকা গরম জল পান করাও হজমের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে ঘরোয়া টোটকায় সমস্যা না কমলে বা বার বার বদহজম, অম্বল কিংবা পেটব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।