বাংলা হল কালীর দেশ। গোটা রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন বিচিত্র নামের কালীর পুজো হয়। এক একটি কালীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক একটি কিংবদন্তি। বাঁকুড়ায় আছেন এক কালী, তাঁর নাম সার্ভিস কালী। জেলার সোনামুখীতে রয়েছে সার্ভিস কালী মন্দির। কেন এমন নাম?
কথিত, এই মন্দিরে দেবীর কাছে মানত করলেই চাকরি মেলে। বেকারত্ব মোচনের আশায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে ছুটে আসেন সোনামুখীতে। দেবী চাকরি জুটিয়ে দেন, তাই তাঁর নাম সার্ভিস কালী। সোনামুখীর পৌর এলাকার সাত নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে সার্ভিস কালীর মন্দির।
শোনা যায়, অতীতে সোনামুখী শহরের ধর্মতলায় কালীপুজো হত। দেবীর নাম ছিল ষোলোয়ানা কালী। প্রায় আশি বছর আগে স্থানীয়দের মনোমালিন্যের জেরে কালীপুজো দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। জনশ্রুতি রয়েছে, সেই সময় বাসের রুট পারমিট সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন জনৈক এক পরিবহণ ব্যবসায়ী। নতুন করে শুরু হওয়া কালীপুজোয় গিয়ে তিনি কালীর কাছে মানত করেন। যে পারমিট সংক্রান্ত সমস্যা থেকে কোনও মতে রেহাই মিলছিল না, মানত করতে তা মিটে যায়। এর পর কালীর মাহাত্ম্য উল্কার গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। দেবীর কাছে পুজো দিয়ে চাকরিপ্রার্থী যুবকদের চাকরির মনোবাঞ্ছা পূরণ হতে শুরু হয়। লোক মুখে এই কালীর নাম হয় ষোলোয়ানা সার্ভিস কালী।
সার্ভিস কালী চতুর্ভুজা। দেবীর গায়ের রং অমবস্যার রাতের মতো ঘন কালো। পদতলে শিব বিরাজ করেন। সঙ্গে থাকে ডাকিনি, যোগিনী। দিনে দিনে চাকরির বাজারে মন্দা বাড়ছে। অন্য দিকে, সার্ভিস কালীর মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী জাগ্রত। কলকাতা ও বাংলার নানা প্রান্ত ছাড়াও দিল্লি, মুম্বই থেকে বহু মানুষ এখন চাকরির বাসনা নিয়ে ছুটে আসেন মন্দিরে। মনস্কামনা পূর্ণ হলে, তাঁরা মন্দিরে এসে পুজো দিয়ে যান।
সারা বছর মন্দিরে নিত্য পুজো হয়। দীপাবলিতে মন্দিরে মহাসমারোহে কালীপুজো হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজো উপলক্ষে তিন দিনের উৎসব চলে। সোনামুখীবাসী আনন্দে মেতে ওঠে। সার্ভিস কালী নামের আড়ালে রয়েছে বেকার যুবকদের স্বপ্ন-আশা, ঈশ্বর বিশ্বাস আর ভক্তির কাহিনি।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।