এক একটি মাস হল দু’টি পক্ষের সমাহার। একটি কৃষ্ণপক্ষ এবং অপরটি শুক্লপক্ষ। আশ্বিনের শুক্লপক্ষে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়। সে পক্ষের নাম দেবীপক্ষ। তার আগের কৃষ্ণপক্ষের নাম পিতৃপক্ষ, যার সময়কাল ১৫ দিন। ‘ভাদ্র পূর্ণিমা’র পরদিন অর্থাৎ কৃষ্ণ প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পিতৃপক্ষ। আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথি অর্থাৎ মহালয়া পর্যন্ত তা চলে। চলতি বছর পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে, শেষ হবে ১০ অক্টোবর।
পিতৃপক্ষের শেষ দিনে, অর্থাৎ মহালয়ায় পিতৃপুরুষকে জলদান ও তিলদান করা হয়। যা পিতৃশ্রাদ্ধের সমতুল্য। কথিত, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ চলাকালীন পিতৃপুরুষ বা পূর্বপুরুষের আত্মা উত্তরসূরিদের হাতে জলগ্রহণের জন্য মর্ত্যে আসেন। পূর্বপুরুষদের আত্মা এই এক পক্ষকাল পিতৃলোক পরিত্যাগ করে বংশধরদের গৃহেই অবস্থান করেন। সেই কারণে এই পক্ষের নাম পিতৃপক্ষ। তাই এ সময়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করার নিয়ম। তবে কেবল পিতৃপুরুষের উদ্দেশে নয়, সর্বভূতের উদ্দেশেই তর্পণ করা হয়।
আরও পড়ুন:
স্বর্গলোক ও মর্ত্যলোকের মাঝে রয়েছে পিতৃলোক। জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী মৃত তিন পুরুষ পিতৃলোকে অবস্থান করেন। এই লোকের অধিশ্বর যমরাজ। মৃতের আত্মাকে তিনি মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। কারও মৃত্যু হলে তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের এক জনের আত্মা পিতৃলোক ত্যাগ করে স্বর্গলোকে পৌঁছয়। তখনই আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন হয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের সূচনা হয়। সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে পূর্বপুরুষদের আত্মারা পিতৃলোকে ফিরে যায়। গোটা সময়কালে পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশে তর্পণ করা যায়। তবে তর্পণের শ্রেষ্ঠ তিথি হল পিতৃপক্ষের অন্তিম দিন, অর্থাৎ মহালয়া।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।