পুজো মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখা, পাড়ার মণ্ডপে আড্ডা আর শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ। কিন্তু আনন্দের পাশাপাশি থাকে ভিড়, যানজট আর রাস্তাঘাটের হইহুল্লোড়। এর মধ্যে বার বার পকেট বা ব্যাগ থেকে ফোন বের করা, মুঠোফোনে কথা বলা, গান বদলানো কিংবা জরুরি মেসেজের উত্তর দেওয়া বেশ ঝক্কির। তার উপর ভিড়ের মধ্যে ফোন হাত থেকে পড়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এমন পরিস্থিতিতে একটি ভাল ব্লুটুথ হেডফোন হয়ে উঠতে পারে পুজোর অন্যতম কাজের গ্যাজেট। ফোন পকেটে বা ব্যাগে রেখেই বেশ কিছু কাজ সেরে ফেলা সম্ভব। তবে তার জন্য হেডফোনে প্রয়োজনীয় ফিচার থাকা এবং ফোনের সঙ্গে আগে থেকে সংযোগ করে রাখা জরুরি।
পুজোর ভিড়ে কেন কাজে আসবে ব্লুটুথ হেডফোন?
১. ফোন না বের করেই কল ধরুন
ভিড়ের মধ্যে ব্যাগ খুলে ফোন খোঁজা কিংবা পকেট থেকে বার বার ফোন বের করার ঝামেলা এড়াতে পারে ব্লুটুথ হেডফোন। অনেক মডেলেই বোতাম বা স্পর্শনির্ভর নিয়ন্ত্রণের সাহায্যে কল ধরা এবং কেটে দেওয়া যায়। ফলে ঠাকুর দেখতে দেখতে কিংবা যাতায়াতের পথে ফোন হাতে নেওয়ার প্রয়োজন কমে।
২. যাতায়াতের পথে সঙ্গী গান, পডকাস্ট
পুজোর সময় বাস, মেট্রো কিংবা ট্রেনে যাতায়াতের ফাঁকে গান শুনতে ভালবাসেন? ব্লুটুথ হেডফোন থাকলে ফোন হাতে না রেখেই শুনতে পারবেন পছন্দের গান, পডকাস্ট কিংবা অডিয়োবুক। যাতায়াতের সময়টুকুও হয়ে উঠতে পারে মন ভাল করার অবকাশ।
৩. গান বদলানোও সহজ
পছন্দের গানটি শেষ হতেই পরের গান চালাতে হবে? তার জন্য বার বার ফোন বের করার দরকার নেই। হেডফোনের মাল্টিফাংশন বোতাম বা স্পর্শনির্ভর নিয়ন্ত্রণের সাহায্যে অনেক মডেলে গান থামানো, পরের গান চালানো এবং আওয়াজ কমানো-বাড়ানোর সুবিধা থাকে। তবে সব হেডফোনে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই কেনার আগে ফিচারগুলি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
৪. ভয়েস কমান্ডেই হতে পারে কাজ
যাঁদের হেডফোনে ভয়েস কমান্ডের সুবিধা রয়েছে, তাঁরা ফোনের গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিরি ব্যবহার করে কাউকে ফোন করা, মেসেজ লেখার নির্দেশ দেওয়া কিংবা বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়ার মতো কাজ করতে পারেন। তবে এর জন্য ফোন ও হেডফোনে প্রয়োজনীয় সেটআপ এবং অনুমতি থাকা দরকার। তাই শুধু দেখতে ভাল লাগছে বলে নয়, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচার দেখে তবেই কিনুন হেডফোন।
৫. একটানা শব্দ থেকে কিছুটা স্বস্তি
ভিড়ের মধ্যে বাস বা ট্রেনের একটানা আওয়াজে বিরক্ত লাগতেই পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন বা এএনসি-যুক্ত হেডফোন কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এই প্রযুক্তি পরিবেশের একটানা শব্দ কমাতে সাহায্য করে। তবে মানুষের কথা, মণ্ডপের ঘোষণা কিংবা আশপাশের সব আওয়াজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে না। তাই এই সুবিধা থাকলেও চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
৬. দুই হাত থাকবে খালি
পুজোর কেনাকাটা, ব্যাগ সামলানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা— এমন নানা পরিস্থিতিতে ফোন হাতে রাখার প্রয়োজন কমায় ব্লুটুথ হেডফোন। ফলে দুই হাত খালি রেখে অন্য কাজ সামলানো সহজ হয়। তবে রাস্তায় হাঁটার সময় গান শোনা বা ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। চারপাশের যানবাহন ও মানুষের চলাচলের দিকে নজর রাখা জরুরি।
৭. ফোন আর ল্যাপটপে একসঙ্গে সংযোগ
পুজোর ছুটিতেও যাঁদের কাজের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি নেই, তাঁদের জন্য মাল্টিপয়েন্ট ব্লুটুথ হেডফোন সুবিধাজনক হতে পারে। এই ফিচার থাকলে একই সঙ্গে ফোন ও ল্যাপটপের সঙ্গে হেডফোন সংযুক্ত রাখা যায়। ফলে কাজের প্রয়োজনে দুই ডিভাইসের মধ্যে যাতায়াত করা তুলনামূলক সহজ হয়। তবে এই সুবিধা সব মডেলে থাকে না, তাই কেনার আগে বৈশিষ্ট্যগুলি দেখে নেওয়া ভাল।
তবে সাবধানতাও জরুরি
ব্লুটুথ হেডফোন সুবিধা বাড়ালেও পুজোর ভিড়ে অসতর্ক হওয়া চলবে না। মণ্ডপে ঢোকার সময়, রাস্তা পারাপারের সময় কিংবা ট্রেন ও মেট্রো স্টেশনে থাকার সময় হেডফোনের আওয়াজ কম রাখুন। অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন চালু থাকলে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ শোনার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই চারপাশ থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করবেন না। ভিড়ের মধ্যে ফোন ব্যাগের নিরাপদ জায়গায় অথবা সামনের পকেটে রাখুন।
সব মিলিয়ে, পুজোর কেনাকাটার তালিকায় ব্লুটুথ হেডফোন রাখতে পারেন আপনিও। তবে কেনার আগে দেখে নিন কল নিয়ন্ত্রণ, ভয়েস কমান্ড, নয়েজ ক্যানসেলেশন কিংবা মাল্টিপয়েন্ট সংযোগের মতো কোন কোন সুবিধা আপনার প্রয়োজন। সঠিক ফিচারের হেডফোন পুজোর পথে চলার অভিজ্ঞতা আরও সহজ করে তুলতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।