পুজোর আনন্দে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভ্যাপসা গরম আর বার বার লোডশেডিং। বাইরে কখনও বৃষ্টি, কখনও চড়া রোদ। ঘরের ভিতরেও অস্বস্তি থেকে রেহাই মেলে না। বিশেষত বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকলে ঘাম শুকোতে চায় না, ফলে গরম আরও বেশি অনুভূত হয়। শুধু পাখা চালিয়েও তখন স্বস্তি মেলে না। কিন্তু ঘর ঠান্ডা রাখতে কি সব সময় এসির প্রয়োজন? একেবারেই নয়। কয়েকটি প্রযুক্তি ও ঘর ঠান্ডা রাখার কার্যকর পদ্ধতি কাজে লাগালে বিদ্যুতের খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও অনেকটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
এসি কিনবেন, না কি অন্য কোনও প্রযুক্তি?
ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলির মধ্যে অন্যতম হল এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। স্প্লিট এসি, উইন্ডো এসি কিংবা পোর্টেবল এসি— ঘরের আয়তন, জানালার ধরন ও বাজেট অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। তবে এসি কেনার আগে ঘরের আয়তন, রোদ ঢোকার পরিমাণ এবং যন্ত্রটির বিদ্যুৎ খরচ বিবেচনা করা জরুরি। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। তবে মনে রাখতে হবে, এসি চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ক্ষমতার বিদ্যুৎ সংযোগ বা ব্যাকআপ প্রয়োজন।
এয়ার কুলার কি আদৌ কাজে আসবে?
এসি-র তুলনায় কম খরচে ঘর ঠান্ডা করার বিকল্প হিসেবে এয়ার কুলার কিনতে পারেন। তবে কলকাতার মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় এই যন্ত্র কেনার আগে দু’বার ভাবা দরকার। এয়ার কুলার জলের বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাতাস ঠান্ডা করে। বাতাসে আর্দ্রতা আগে থেকেই বেশি থাকলে এই প্রক্রিয়া ততটা কার্যকর হয় না। বরং ঘরের ভিতরে আর্দ্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই কুলার ব্যবহার করলে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় এসি তুলনামূলক কার্যকর বিকল্প।
স্মার্ট ফ্যানেই কি মিলবে স্বস্তি?
লোডশেডিংয়ের সময় পাখা বন্ধ হয়ে গেলে অস্বস্তি বাড়ে। সে ক্ষেত্রে ব্যাটারি-চালিত রিচার্জেবল ফ্যান কাজে আসতে পারে। বিদ্যুৎ থাকাকালীন চার্জ দিয়ে রাখলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও কিছু সময় হাওয়া পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ব্রাশলেস ডিসি মোটরযুক্ত (বিএলডিসি) সিলিং ফ্যান সাধারণ ফ্যানের তুলনায় কম বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। তবে পাখা ঘরের তাপমাত্রা কমায় না, শুধু বাতাস চলাচল বাড়িয়ে শরীরকে তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভব করায়।
ইনভার্টার কেনার আগে কী মাথায় রাখবেন?
বার বার লোডশেডিং হলে বাড়িতে ইনভার্টার ও উপযুক্ত ব্যাটারি রাখা যেতে পারে। তবে শুধু ইনভার্টার থাকলেই এসি চালানো যাবে, এমন নয়। ব্যাকআপের ক্ষমতা নির্ভর করে ইনভার্টারের ওয়াট ও ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতা, ব্যাটারির ধারণক্ষমতা এবং কোন কোন যন্ত্র একসঙ্গে চালানো হচ্ছে তার উপর। সাধারণত পাখা, আলো ও মোবাইল চার্জ দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালানোর জন্য ব্যাকআপ ব্যবস্থা করা তুলনামূলক সহজ। এসি চালাতে হলে তার বিদ্যুৎ চাহিদা ও চালু হওয়ার সময়ের অতিরিক্ত লোড সামলানোর মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ঘর ঠান্ডা রাখতে আরও কোন প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে?
ঘরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বোঝার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার বা হাইগ্রোমিটার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আর্দ্রতা অত্যধিক হলে, বিশেষ করে এসি ব্যবহার না করলে, ডিহিউমিডিফায়ার বাতাসের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই যন্ত্রও বিদ্যুৎ খরচ করে এবং নিজে থেকে ঘর ঠান্ডা করার বিকল্প নয়। বরং আর্দ্রতা কমিয়ে অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। ঘরের প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্র বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
পুজোর সময়ে ঘরকে আরামদায়ক রাখতে সবচেয়ে জরুরি হল আবহাওয়া বুঝে প্রযুক্তির ব্যবহার। আর্দ্র আবহাওয়ায় কুলারের বদলে এসি বেশি কার্যকর হতে পারে, আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে রিচার্জেবল ফ্যান বা উপযুক্ত ব্যাকআপ ব্যবস্থা স্বস্তি দিতে পারে। সঙ্গে জানালায় তাপ আটকানোর ব্যবস্থা ও সঠিক বায়ু চলাচল— এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই গরমের অস্বস্তি অনেকটা সামলানো সম্ভব।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।