বয়স বাড়ছে, তাই আগের মতো শক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। দাম্পত্য জীবনে এমন কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে অস্বস্তি হয়। বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে অনেক পুরুষই এই উপসর্গগুলি এড়িয়ে যান। কিন্তু কখনও কখনও শরীরের এই আপাত সাধারণ সমস্যাগুলিই হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে দীর্ঘায়ু এবং হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জীবনযাপন সংক্রান্ত বিষয়ের প্রশিক্ষক ফ্লোরেন্স কোমিতে পুরুষের ‘ইরেকটাইল ডিসফাংশন’ বা লিঙ্গোত্থানের সমস্যার মতো উপসর্গের কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি অনেকেই কেবল যৌনস্বাস্থ্যের সমস্যা বলে মনে করেন। কিন্তু এই ধরনের উপসর্গের নেপথ্যে কখনও কখনও হৃদ্রোগ বা রক্তনালির সমস্যা থাকতে পারে। তাই বয়সের অজুহাতে এগুলি উপেক্ষা করা উচিত নয়।
লিঙ্গোত্থানের সমস্যাকে অনেক সময়ে হৃদ্যন্ত্রের অসুখের একটি আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
পুরুষাঙ্গে রক্ত চলাচলের ধমনীগুলি হৃদ্যন্ত্রের ধমনীর তুলনায় অনেক বেশি সরু। হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে যখন চর্বি জমে বা অন্য কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, তখন সেই সরু নালিগুলি সবার আগে বন্ধ হয় বা বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে সেই অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছোতে পারে না এবং লিঙ্গোত্থানে সমস্যা দেখা দেয়। যেহেতু হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিগুলি আকারে কিছুটা বড়, তাই সেখানে ব্লক তৈরি হয়ে বুকে ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ প্রকাশ পেতে আরও কয়েক বছর বেশি সময় লাগতে পারে। এ কারণেই লিঙ্গোত্থানের সমস্যাকে অনেক সময়ে হৃদ্যন্ত্রের অসুখের একটি আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে এর কারণ হৃদ্যন্ত্রের রোগ, তা নয়। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হরমোনের পরিবর্তন, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। তাই যৌনক্ষমতার সমস্যা দেখা দিলে লজ্জা বা সঙ্কোচে তা লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
আরও পড়ুন:
বার বার এই সমস্যা হলে চিকিৎসক রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। পাশাপাশি, ধূমপান, ওজন, শারীরিক সক্রিয়তা, পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। উদ্দেশ্য শুধু যৌনস্বাস্থ্যের সমস্যার কারণ খুঁজে বার করা নয়, সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বোঝা।