ক্যামেরার সামনে অনর্গল কথা বলা, হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে অনায়াসে দর্শকাসন মাতিয়ে রাখা বা কথায় কথায় প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের ছাপ! শাহরুখ খান যেন আত্মবিশ্বাসের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যাঁর কোনও কিছুতেই অস্বস্তি হয় না। কিন্তু বাস্তব যে সব সময়ে এমন হয় না, তা নিজেই জানিয়েছেন বলিউডের বাদশা। তাঁর এমন একটি অভ্যাস রয়েছে, যা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন।
কিং খান জুতো ছাড়া থাকতে নাকি অস্বস্তি বোধ করেন! এমনকি, নিজের মনকে নগ্ন করে তোলা নাকি পায়ের নগ্নতাকে মেনে নেওয়ার চেয়ে সহজ। এক মুহূর্ত পা খালি থাকে না তাঁর। পুরনো এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানান, ঘুম থেকে উঠে বিছানা থেকে পা নামানোর পরেই তিনি জুতো পরে নেন। খালি পায়ে থাকতে তাঁর অস্বস্তি হয়। এমনকি, ছবির প্রয়োজনে কোনও দৃশ্যে জুতো খুলতে হলেও তিনি মোজা বা অন্য কিছু পরে থাকতে চান।
কিং-এর কিসে অস্বস্তি? ছবি: সংগৃহীত
শাহরুখের এই স্বীকারোক্তি শুনে অবাক লাগতে পারে। কিন্তু এর মধ্যেই রয়েছে মনস্তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যাঁকে বাইরে থেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হয়, তিনিও নিজের কোনও বিশেষ দিক নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। আত্মবিশ্বাস থাকা মানেই যে নিজের প্রতিটি বিষয় নিয়ে স্বচ্ছন্দ হতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী মানুষও কেন অস্বস্তিতে ভোগেন?
আত্মবিশ্বাস সব ক্ষেত্রে সমান ভাবে কাজ করে না। একজন কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ হতে পারেন, অথচ নিজের চেহারা, পোশাক বা শরীরের কোনও বিশেষ অংশ নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। অন্যের সামনে কথা বলতে কোনও সমস্যা না থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে প্রকাশ করতে অসুবিধা হতে পারে। আত্মবিশ্বাস কোনও সমসত্ত্ব অনুভূতি নয়। জীবনের একটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছন্দ থাকা মানেই অন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেও একই রকম স্বচ্ছন্দ হতে হবে, এমনও নয়। আর সেটিকে জোর করে কাটিয়ে উঠতে হবে, তার কোনও মানে নেই। শাহরুখ যদি জুতো পরে থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, তা হলে তাঁকে জোর করে খালি পায়ে থাকতে শিখতেই হবে, এমন নয়। নিজেকে মেনে নেওয়ার অর্থ হল নিজের পছন্দ, সীমাবদ্ধতা ও বৈশিষ্ট্যকে অযথা বিচার না করা। আপনার কোনও অভ্যাস অন্য কারও অদ্ভুত মনে হলেই তা বদলে ফেলতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
মনোবিদদের মতে, কিছু অস্বস্তির পিছনে খুব গভীর কোনও মনস্তাত্ত্বিক কারণ না-ও থাকতে পারে। ব্যক্তিগত পছন্দ বা দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকেও এমনটা হতে পারে। আবার এর উল্টোটাও হতে পারে। ছোটবেলায় কারও ঠাট্টা, কোনও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা বা চেহারা নিয়ে বার বার সমালোচনা শোনার ফলে নিজের কোনও বিশেষ দিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। শাহরুখের ক্ষেত্রে এর কোনটি প্রকৃত কারণ, তা স্পষ্ট নয় যদিও।
কোনও একটি বিষয় নিয়ে অস্বস্তি হচ্ছে মানেই, তা মানসিক সমস্যার লক্ষণ নয়। কিন্তু সেই অস্বস্তি যদি ক্রমশ জীবনের পরিসর ছোট করে দেয়, খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে অস্বস্তি হচ্ছে? অন্যেরা কী ভাববেন, সেই ভয় কাজ করছে কি না? অতীতের কোনও অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে কি না? না কি বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ? নিজের অনুভূতির কারণ বুঝতে পারলে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হতে পারে। বিষয়টি গুরুতর মনে হলে অবশ্যই পেশাদার বা মনোবিদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।