E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বিধানসভার অঙ্কে রাজ্যসভার প্রার্থী বাছল বিজেপি

এ দফায় উত্তরপ্রদেশে সব মিলিয়ে ১০টি আসনে রাজ্যসভার ভোট। বিধায়ক সংখ্যার হিসাবে বিজেপি আটটি ও এসপি দু’টি জিততে পারবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৪
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের আটটি আসনে আজ প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। তালিকায় বড় মাপের নেতা-নেত্রীর নাম থাকা তো দূর, নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার যে সদস্যদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাঁদের নামও পুনর্বিবেচনায় আনা হয়নি। পরিবর্তে আগামী বছরের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে জাতিগত, সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের কথা মনে রেখেই ভূমিপুত্রদের টিকিট দিয়েছে পদ্মশিবির।

এ দফায় উত্তরপ্রদেশে সব মিলিয়ে ১০টি আসনে রাজ্যসভার ভোট। বিধায়ক সংখ্যার হিসাবে বিজেপি আটটি ও এসপি দু’টি জিততে পারবে। আজকের তালিকাকে চমক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন অনেক বিজেপি নেতা। দলের অনেকেই ভেবেছিলেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তনের পরে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভাতেও যাবেন তিনি। কিন্তু তা হয়নি। তেমনি পুনর্বিবেচনা করা হয়নি এপস্টিন ফাইলে নাম আসা পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় তিনি ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে ঘরোয়া মহলে বার বার দাবি করেছিলেন হরদীপ। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি যেমন ব্রাত্য রইলেন, তেমনি কেন্দ্রীয় সামাজিকন্যায় মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বি এল বর্মার নামও তালিকায় নেই। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম তালিকায় না থাকা ফের উস্কে দিয়েছে মন্ত্রিসভার রদবদলের সম্ভাবনাকে।

আজ বিজেপি যে আট জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, তাঁদের মধ্যে তিন জন ওবিসি, দু’জন তফসিলি জাতি, দু’জন ব্রাহ্মণ ও একজন রাজপুত সমাজের। প্রার্থীদের মধ্যে দু’জন মহিলা। ওই আট জনের মধ্যে লোধ সম্প্রদায়ের ওবিসি নেতা ধর্মপাল সিংহ বর্তমানে যোগী সরকারের মন্ত্রী। আর এক ওবিসি নেতা প্রকাশ পাল উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য ওবিসি মোর্চার সভাপতি। মূলত কানপুর-বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে ভাল প্রভাব রয়েছে ওই নেতার। তৃতীয় ওবিসি নেতা হলে শ্রুতি গাঙ্গওয়ার। তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কুর্মি সমাজের নেতা সন্তোষ গাঙ্গওয়ারের মেয়ে।

বিজেপি সূত্রের ব্যাখ্যা, মূলত যাদব সমাজের নন এমন ভোটব্যাঙ্ককে বার্তা দিতেই ওই তিন নেতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তেমনি দলিত সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে প্রিয়ঙ্কা সিংহ রাওয়ত ও বিদ্যাসাগর সোনকারকে টিকিট দিয়েছে দল। প্রিয়ঙ্কা ২০১৪ সালে সাংসদ হয়েছিলেন বারাবাঁকি থেকে। দলিত সমাজের ওই নেত্রী বর্তমানে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি। অন্য দিকে, দলিত সমাজের পরিচিত বিদ্যাসাগর। এই দু’জনকে প্রার্থী করে দলিত ভোটকে কাছে টানার কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

যোগী আদিত্যনাথ সরকারের দু’পর্বের শাসনে ব্রাহ্মণ সমাজ বেশ ক্ষুব্ধ। একাধিকবার প্রকাশ্যেই সেই ক্ষোভ জানিয়েছেন দলের ব্রাহ্মণ নেতা-কর্মীরা। মূলত তাঁদের ক্ষোভ প্রশমনে রাধাকান্ত ওঝা, গোপীকৃষ্ণ পাণ্ডেকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি।

এ ছাড়া ঠাকুর ভোটকে মাথায় রেখে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ঠাকুর নেতা রামপ্রতাপ সিংহ চৌহানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই আট জনকে প্রার্থী করার পিছনে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বকে মাথায় রাখা হয়েছে। দলের মতে, এদের মধ্যে শ্রুতি হলেন রোহিলাখণ্ডের নেত্রী। তেমনি রাধাকান্ত প্রয়াগরাজ এলাকার নেতা। বাকিদের মধ্যে গোপীকৃষ্ণ ও বিদ্যাসাগর পূর্বাঞ্চলের নেতা। সেখানে রামপ্রতাপ ও ধর্মপাল যথাক্রমে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও ব্রজ এলাকায় সক্রিয়। প্রকাশের কর্মক্ষেত্র হল কানপুর-বুন্দেলখণ্ড এলাকা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
BJP Bidhan Sabha Bhaban

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy