যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হতে চান দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অফিসারেরা। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভের সময় তাদের কর্মী, অফিসারেরা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৩১ জুলাই অবস্থান বিক্ষোভ করতে চান দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অফিসারেরা। সোমবার দিল্লি পুলিশের সদর দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন তাঁরা।
নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র যে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল, তাতে আন্দোলনকারীদের নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে ছর্রা গুলি ছোড়া হয়েছে। তাঁদের উপরে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের দাবি, সিজেপি-র আন্দোলনে বহিরাগতেরা প্রবেশ করে পাল্টা তাদেরই মারধর করেছে। দুষ্কৃতীদের হামলায় অন্তত ১০০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি।
এই আবহে আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারকে চিঠি দিয়ে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি চাইল অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের সংগঠন। তারা আবেদনপত্রে লিখেছে, ‘‘২০ জুলাই যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশে কর্তব্য পালনের সময় আক্রান্ত হয়েছেন প্রচুর সংখ্যক পুলিশ এবং আধাসেনা অফিসার।’’ এই হামলার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধর্নায় বসার অনুমতি চেয়েছেন সংগঠনের সদস্যেরা। তাঁরা এ-ও জানিয়েছেন, আইন মেনে শান্তিপূর্ণ ভাবে ওই কর্মসূচি পালন করা হবে।
নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনের সময়ের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন রেকর্ডিং, বডিক্যামের তথ্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। আদালতের আরও নির্দেশ, বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের কোনও তথ্য জনসমক্ষে আনা যাবে না। সেই দিকটাও নজর রাখতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন করা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত। এ বিষয়ে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহার, কেরল, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবদের কাছেও জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই আবহে দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, কর্মীরা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে ধর্নায় বসতে চান। সেই নিয়ে অনুমতি চেয়ে দিলেন চিঠিও।