সিবিআই তদন্তের দাবিতে এখনও রাজি হয়নি ঝাড়খণ্ড সরকার। তবে পরীক্ষা বাতিলের দাবি মেনে নিয়েছে। পরীক্ষা পরিচালন সংস্থা টিডিপিএল ২০১৪ সাল থেকে ঝাড়খণ্ডে যত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়েছে, সব বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে হেমন্ত সোরেনের সরকার। দিয়েছে সংস্কারের বার্তাও। তার পরই সোমবার রাতের দিকে অনশন প্রত্যাহার করে নেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।
ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সংস্কার-সহ বিবিধ দাবি নিয়ে গত ২ অগস্ট থেকে অনশন করে যাচ্ছিলেন দেবেন্দ্র। অবশেষে সোমবার সরকারের কাছ থেকে পরীক্ষা বাতিল এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরে রাতে সেই অনশন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। দেবেন্দ্রের সঙ্গে অনশন চালাচ্ছিলেন আরও দুই ছাত্রনেতা উম্মে হাবিবা এবং রাহুল ক্রান্তি। তাঁরাও অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
দেবেন্দ্ররা যে অনশন প্রত্যাহার করবেন, হেমন্তের সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক শেষ হওয়ার পর পরই সেই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে রাতে ঝাড়খণ্ডের দুই মন্ত্রী ইরফান আনসারি এবং দীপিকা পাণ্ডে সিংহ দেখা করেন অনশনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে। এর পরই অনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে দেন দেবেন্দ্র। ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের জন্য ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রশংসাও করেন দেবেন্দ্র। তিনি বলেন, “এমন একটি সাহসী পদক্ষেপের জন্য আমি ঝাড়খণ্ড সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পরীক্ষা বাতিল করাটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরও বলেন, “সরকারের পক্ষে হয়তো এই সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। কারণ, জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষার নিয়োগপ্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। কাজে যোগ দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। অনেক পড়ুয়া সম্ভবত নিজেদের আসন নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তবুও, এই সঙ্কটময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ করেছে।”
অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনের পথ এখনও ছাড়েননি ঝাড়খণ্ডের ছাত্র-যুবরা। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা রাহুল ক্রান্তি জানান, সরকার সিবিআই তদন্তের দাবি না-মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে। সোমবার রাতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গেও কথা হয়েছে দেবেন্দ্রর। হেমন্তের সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে দেবেন্দ্রকে ভিডিয়ো কল করেন ওয়াংচুক। সরকারের ঘোষণাকে ‘সকলের জয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন তিনি।