বিভিন্ন রাজ্যে নিট-আন্দোলনে শামিল হওয়া বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়় শুরু হতেই ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তার পরেই সোমবার মধ্যরাতে কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন বলে জানিয়েছে সিজেপি। রাত ১টা নাগাদ সিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস একটি ভিডিয়ো-বার্তায় জানান, যে সমস্ত আন্দোলনকারীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে সরকার।
একই সঙ্গে সৌরভ জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না-করার বিষয়েও সরকারের তরফে আশ্বাস মিলেছে। মধ্যরাতে প্রায় ২-৩ ঘণ্টার বৈঠকে কেন্দ্র বিহার এবং অসম সরকারের দু’টি বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি সিজেপি-র প্রতিনিধিদের দেখায়। ওই দুই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। আটক বা ধৃত সকলকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সিজেপি-র তরফে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের মুক্তি দেওয়া এবং এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়টি মঙ্গলবারের মধ্যে দেশের সব এনডিএশাসিত রাজ্যকে জানিয়ে দেবে কেন্দ্র। ‘ককরোচ’দের আশা, সরকার প্রতিশ্রুতিরক্ষা করবে। কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস আদায়ের পরেই সৌরভ ভিডিয়ো-বার্তায় বলেন, “কোনও প্রতিবাদীকে আমরা একলা ফেলে যাব না। আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছি।”
সোমবার বিকেলে সিজেপি-র তরফে এই মর্মে অভিযোগ করা হয় যে, নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ধৃত পড়ুয়াদের মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র। বলা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করা হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং অসমে সোমবার পর্যন্ত ‘ধরপাকড়’ চলেছে বলে অভিযোগ করে সিজেপি। তার পরেই ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেয় তারা। ঘটনাচক্রে, সিজেপি-র ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই বিহার সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসে। জানানো হয়, বিহারে ধৃত নিট-আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেওয়া হবে। তার কিছু পরে অসম সরকারেরও একটি বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার জানিয়ে দেয় যে, নিট-বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অসম পুলিশ বা সে রাজ্যের অন্য তদন্তকারী সংস্থা কোনও আইনি পদক্ষেপ করবে না। রুজু হওয়া ওই মামলাগুলি যে পর্যায়েই থাকুক না কেন— তা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে। যাঁদের পাকড়াও করা হয়েছে, তাঁদের গ্রেফতারির বিষয়টি পর্যালোচনা করে মুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।
সিজেপি সোমবার বিজেপিশাসিত যে তিন রাজ্যে ‘ধরপাকড়ের’ অভিযোগ তুলেছিল, তার মধ্যে দুই রাজ্য ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। ধৃতদের মুক্তি দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমন কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
-
ককরোচ সমর্থককে মারধরে অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে অবশেষে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পাঠানো হল জেল হেফাজতে
-
‘হাতজোড় করে আন্দোলনে ইতি টানতে চেয়েছিলেন’, যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ওয়াংচুকের
-
ককরোচদের সংসদ অভিযানের দিন ছর্রা গুলিতে জখম হন অন্তত ১০ জন! আরটিআই-এর জবাবে বলল দুই হাসপাতাল
-
‘অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন মন্ত্রীরা!’ নড্ডার হাতে স্যুপ খাওয়ার ১৪ দিন পরে সরব হলেন ওয়াংচুক
-
ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ