অনশন ভাঙার পাঁচ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল বলে অভিযোগ করলেন সোনম ওয়াংচুক! নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন এই শিক্ষাবিদ ও সমাজসৈনিক।
ওয়াংচুককে কেন্দ্র করেই দানা বেঁধেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন। অনশনের ২০ দিনের মাথায় তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায় কেন্দ্রীয় সরকার। ২৬ দিন পরে হাসপাতালেই অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক। তখনও ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেননি। চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তিনি আন্দোলন থেকে সরে এলেন কি না সেই প্রশ্ন উঠেছিল। তার থেকেও বড় প্রশ্ন উঠেছিল দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের হাত থেকে স্যুপ খেয়ে তিনি অনশন ভাঙছেন, সেই ছবি সামনে আসায়। ২৩ জুলাই সেই ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পরে ওয়াংচুক অভিযোগ করলেন, তড়িঘড়ি ওই ছবি প্রকাশ করে তাঁর বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় রাজনীতিকদের উপরে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়াংচুক।
বুধবার ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, বিরোধী দলের নেতারা এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে অনশন প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কোনও ছবি প্রকাশ করে হবে না। নড্ডারা যখন দেখা করতে আসেন, তখন মাঝরাত পেরিয়ে গিয়েছে। ওয়াংচুকের কথায়, ‘‘আমি ওঁদের বলি, আমি অনশন ভঙ্গ করছি। কিন্তু খবরটা আমার শর্তে প্রকাশ করতে হবে, বিরোধী দলের নেতাদের এবং সম্ভব হলে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলে। তা হলে বোঝা যাবে যে, এটা একটা যৌথ উদ্যোগ।’’
ওয়াংচুকের দাবি, মন্ত্রীরা সেই প্রস্তাব মেনেও নিয়েছিলেন এবং তখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)-র আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। ‘‘মন্ত্রীরা নিজেদের ফোটোগ্রাফার নিয়ে এসেছিলেন। আমি আইবি-র আধিকারিকদের বলি, আপনারা এই বোঝাপড়ার সাক্ষী। আমি যতক্ষণ না সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সামনে অনশন ভাঙার কথা বলছি, ততক্ষণ কেউ এই ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না।’’ বলেছেন ওয়াংচুক। ‘‘কিন্তু ৫ মিনিটের মধ্যে আইবি-র এক জন আধিকারিক হাঁপাতে হাঁপাতে এসে আমাকে বলেন, স্যার, কী ভাবে হয়েছে জানি না, তবে সব টিভি চ্যানেলে ছবিগুলো দেখাচ্ছে।’’
ওয়াংচুকের বক্তব্য, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরে আধিকারিকদের হাত থেকে স্যুপ বা ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙাই লাদাখের প্রথা। কিন্তু সেটা শুধু শাসকদলের উপস্থিতিতই ঘটছে, এমন ভাবে কখনও দেখানো হয় না। তিনি বলেন, “তাঁরা (দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন। তাই এই সমস্ত নেতার উপর থেকে আমার ভরসা উঠে গিয়েছে।”
অনশনভঙ্গের পরেই সিজেপি নেতাদের সঙ্গে ওয়াংচুকের সম্পর্কের একটা শীতলতা লক্ষ করা গিয়েছিল। অনশন প্রত্যাহারকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানালেও আন্দোলন তুলে নিতে রাজি হননি অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাসেরা। জানিয়ে দেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি থেকে কোনও মতেই সরবেন না তাঁরা। কেন্দ্রীয় সরকারও বুঝে যায়, ওয়াংচুকের সঙ্গে সমঝোতা করে আরশোলাদের আন্দোলন ভাঙা সম্ভব হবে না। ২৫ তারিখ দুপুরে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র।
তার পরেও ওয়াংচুকের সঙ্গে দৃশ্যতই দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন ককরোচ নেতারা। ওয়াংচুকের সঙ্গে আর হাসপাতালে দেখা করতে যাননি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওয়াংচুক যখন রাজঘাটে যান, তখনও তাঁর সঙ্গে সিজেপি-র কোনও নেতা ছিলেন না। ওয়াংচুক ফিরে গিয়েছেন লাদাখে। ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পরে এক হোটেলে নাচেগানে ককরোচদের সেলিব্রেশনের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, সংযম ও বিনয়ের সঙ্গে উদ্যাপন করা উচিত। যা ককরোচদের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে।
কোনও কোনও মহল থেকে কেন্দ্র-ওয়াংচুক সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছিল। প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল, এর পিছনে কোনও ‘বোঝাপড়া’ আছে কি না। ওয়াংচুক এ দিন বলেছেন, ‘‘সেটা (বোঝাপড়া) করলে তো অনেক আগেই করতে পারতাম। তা হলে তো ২৬ দিন অনশনে বসতাম না। আর যদি বোঝাপড়া করতেই চাইতাম, তা হলে বলতে পারতাম যে, আমাকেই শিক্ষামন্ত্রী করে দিন। আমার কাছে অনেক সুযোগ ছিল।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
-
ককরোচ সমর্থককে মারধরে অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে অবশেষে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পাঠানো হল জেল হেফাজতে
-
‘হাতজোড় করে আন্দোলনে ইতি টানতে চেয়েছিলেন’, যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ওয়াংচুকের
-
ককরোচদের সংসদ অভিযানের দিন ছর্রা গুলিতে জখম হন অন্তত ১০ জন! আরটিআই-এর জবাবে বলল দুই হাসপাতাল
-
ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ
-
সংসদ অভিযানের পরেও পাথর ছোড়া হয়েছিল! সিজেপি-র কর্মসূচি ঘিরে অশান্তি কত দূর ছড়িয়েছিল, জানাল পুলিশ