Advertisement
E-Paper

ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ

মঙ্গলবার সিজেপি-র সমর্থকেরা এবং বিরোধী দলগুলির ছাত্র ও যুব কর্মীরা পটনার গাঁধী ময়দানে জমায়েত করেন। সেখান থেকে তাঁরা মিছিল করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধরীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে বাধা দেয় পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০২৬ ১৯:৫১
Bihar Police use water cannons to thwart ‘CM gherao’ march in Patna

পটনায় পড়ুয়াদের বিক্ষোভে জলকামান। ছবি: পিটিআই।

নিট-এর প্রশ্নপত্রফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সময় ধৃত বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে আবার বিহারের রাজধানী পটনার রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সঙ্গী কংগ্রেস, আরজেডি এবং বামেদের ছাত্র সংগঠন। ঘটনাচক্রে, পটনা শহরেরই প্রাণকেন্দ্রের বিধানসভা বাঁকিপুরে উপনির্বাচনে সে রাজ্যের শাসকদল বিজেপির পরাজয়ের ঠিক পরের দিনেই সংঘটিত হল এই বিক্ষোভ।

মঙ্গলবার সিজেপি-র সমর্থকেরা এবং বিরোধী দলগুলির ছাত্র ও যুব কর্মীরা পটনার গাঁধী ময়দানে জমায়েত করেন। সেখান থেকে তাঁরা মিছিল করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধরীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে বাধা দেয় পুলিশ। ফলে তৈরি হয় উত্তেজনা। প্রথমে লাঠিচার্জ এবং পরে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিহারে। প্রতিবাদী ছাত্র-যুবদের অভিযোগ, গত ২৫ জুলাই বিহারে ছাত্র ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশ ৬৯৪ জন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী কালে বিহার সরকার সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার (সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন) কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, সরকার তাদের দেওয়া কথা রাখেনি। এখনও অনেক আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে তাই মঙ্গলবার ‘মুখ্যমন্ত্রী ঘেরাও অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল ছাত্রছাত্রীদের তরফে। ঘটনাচক্রে, সোমবারই পটনা পুরসভার অন্তর্গত বাঁকিপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জনসুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান তথা প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (‘পিকে’ নামেই যিনি পরিচিত)। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পরে বিধায়কপদে ইস্তফা দেওয়ায় বাঁকিপুরে উপনির্বাচন হয়েছিল। গত তিন দশক ধরে ‘বিজেপির দুর্গ’ হিসাবে পরিচিত ওই এলাকায় পরাজয়ের অন্যতম ‘কারণ’ হিসেবে দলেরই একাংশ নিট প্রশ্নফাঁস এবং ককরোচ আন্দোলনকে চিহ্নিত করেছে ইতিমধ্যেই। যদিও পিকে নিজে মঙ্গলবার দাবি করেন, বিহারের ছাত্র-যুবদের প্রতি ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র ধারাবাহিক বঞ্চনার কারণেই ক্ষোভ বাড়ছে ভোটদাতাদের।

প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন ধর্না-বিক্ষোভের পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিলেও গত ২৯ জুলাই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অভিজিৎ দীপকে নতুন করে আন্দোলন শুরুর বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে অস্ত্র করে কেন্দ্র এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল, নিট আন্দোলনে দেশ জুড়ে যে সব নাবালক বিক্ষোভকারীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, অপরাধের ইতিহাস নেই, এমন বিক্ষোভকারীদের আটক বা গ্রেফতার করে রাখা যাবে না। মুক্তি দিতে হবে তাঁদের সকলকেই। পাশাপাশি এই আন্দোলনে অশান্তির ঘটনায় নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের পক্ষেও বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বার্তা দিয়েছিল ‘নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি’ গঠনেরও।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ। কারা দায়ী, তা নির্দিষ্ট না হলে তদন্তের কোনও অর্থ হয় না। তাই যাঁরাই সীমা লঙ্ঘন করে থাকুন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সিজেপি-র অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে হাতিয়ার করে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। গত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের দুই মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পরে সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের তরফে ‘সব দাবি’ মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি মেলায় তাঁরা যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান প্রত্যাহার করছেন। সিজেপি ঘোষিত ‘সব দাবি’র মধ্যে ছিল, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ।

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Student Protests NEET Paper Leak Case bihar police Water Cannon CJP Bihar Bypoll Cockroach Janta Party patna NSUI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy