কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলে পাজি! এমনটা যেন এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের সঙ্গে না ঘটে।
আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই অনুরোধ জানিয়েছেন দলের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পরে সুদীপ বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, এমনটা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং তিনি তাঁর মন্ত্রীদের এবং দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেবেন যাতে সদ্যোজাত এই শরিককে প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চলতি সপ্তাহেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার পরে মোদীর সময় চেয়েছিলেন সুদীপ। তাঁর বক্তব্য ছিল, এনডিএ-র শরিক হওয়ার পরে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে এক বার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁকে বলা হয় শনিবার ভোরের বিমানে দিল্লি পৌঁছতে। আজ কথা মতো তিনি দিল্লি পৌঁছলে বিকেল ৫টায় তাঁকে সময় দেওয়া হয়। বৈঠক চলে সওয়া এক ঘণ্টার উপর।
পরে সুদীপ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, অনেক আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের উন্নয়নে সর্বাত্মক ভাবে ঝাঁপাতে। সংসদীয় আলোচনায় যোগ দেওয়ার উৎসাহও দিয়েছেন।” তাঁর কথায়, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে, ইন্ডিয়া মঞ্চ গঠন হওয়ার পরে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা হিসেবে আমি দু’বছর থেকেছি। কিন্তু ইন্ডিয়া-র দলগুলির মধ্যে সংসদীয় কক্ষ সমন্বয়ের মান খুবই খারাপ ছিল। এনডিএ-র ক্ষেত্রেও যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয় এটাই কাম্য। অর্থাৎ, সমাদর করে এনডিএ-তে শামিল করে নিলেন আপনারা, পরে আর চিনতে পারছেন না, এমনটা যেন না হয়। মোদীজি আশ্বাস দিয়েছেন, এমনটা কখনওই ঘটবে না।”
এর আগে সুদীপ যখন অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন, তখন তিনি শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী একই ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করে সুদীপকে বলেছেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজ্যের উন্নতির জন্য চেষ্টা করতে।
সূত্রের খবর, মোদী সুদীপকে বলেন, মানুষ সরকারের স্থিতিশীলতা চায়। তাঁর সরকার যে সেটা দেশকে দিতে পেরেছে, তার উদাহরণস্বরূপ মোদী বলেছেন, তিনি যত দিন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন, ব্রিটেনে সেই সময়সীমায় সাত জন প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন-এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফলাফল নিয়ে সুদীপের মতামত জানতে চেয়েছিলেন আজ প্রধানমন্ত্রী। সুদীপের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ফলাফলে।