ফ্রিজে রাখা মানেই সে খাবার সুরক্ষিত, এমনটা নয় মোটেও। কাঁচা মাছ বা মাংস যতই ডিপ ফ্রিজে রাখুন না কেন, তারও সংরক্ষণের নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তা পেরিয়ে গেলে সেটি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে উঠবে। ফ্রিজের কম তাপমাত্রায় ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ধীরে হয় বটে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয় না। কাঁচা হোক বা রান্না খাবার, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে খাবারে সালমোনেল্লা, ই-কোলাই, লিস্টিরিয়ার মতো ব্যাক্টেরিয়া জন্মায় বা বিভিন্ন ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে, যা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। সেই খাবার পেটে গেলে ডায়েরিয়া, বমি, বিষক্রিয়াও হতে পারে। অথবা পেটের সমস্যা ক্রনিক হয়ে যেতে পারে।
ফ্রিজে কোন খাবার কত দিন টাটকা থাকবে?
কাঁচা মাছ, মাংস ও সামুদ্রিক খাবার
কাঁচা মাছ ও মাংসে দ্রুত ব্যাক্টেরিয়া জন্মায়। তাই খুব বেশিদিন না রাখাই ভাল। কাঁচ মাছ ও চিংড়ি ৩ দিনের মধ্যেই খেয়ে নেওয়া ভাল।
কাঁচা চিকেন বা মটন ৩-৫ দিনের বেশি না রাখাই শ্রেয়।
ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার
দুধ ও ডিম প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলি খুব দ্রুত নষ্ট হতে পারে। কাঁচা ডিম ফ্রিজের ভিতরের তাকে রাখলে ৩ সপ্তাহ অবধি ঠিক থাকবে। তবে দরজার তাকে রাখলে তা বেশিদিন না রাখাই ভাল।
আরও পড়ুন:
কাঁচা ডিমের কুসুম বা সাদা অংশ ২-৪ দিনের বেশি রাখা যাবে না।
সেদ্ধ ডিম খোসা-সহ ২-৩ দিন রাখা যেতে পারে, তবে খোসা ছাড়িয়ে নিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা খেয়ে ফেলতে হবে।
ফোটানো দুধ ৩-৫ দিনের বেশি রাখা ঠিক নয়।
প্যাকেটজাত দুধের লেবেলে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সময় দেখে নিতে হবে। ৪-৫ দিনের বেশি না রাখাই ভাল।
পনির ১ সপ্তাহের বেশি না রাখাই শ্রেয়। তার মধ্যে খেয়ে নিলেই ভাল।
মাখন ১-৩ মাস রাখা যায় বটে। তবে প্যাকেট খুলে ব্যবহার করতে শুরু করলে এবং বার বার ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে যত দ্রুত সম্ভব তা শেষ করা জরুরি।
কাঁচা ফল ও শাকসব্জি
সবুজ শাকসব্জি (পালংশাক, লালশাক ইত্যাদি) ৩-৫ দিন রাখা যেতে পারে। শুকনো কাপড়ে মুড়ে রাখলে ভাল থাকে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি ১ সপ্তাহ অবধি ঠিক থাকে।
আপেল, পেয়ারা, লেবু জাতীয় ফল ১ সপ্তাহের বেশি রাখা ঠিক নয়।
কাটা ফল (তরমুজ, পেঁপে ইত্যাদি) ১-২ দিন রাখা যেতে পারে, তবে বায়ুরোধী পাত্রে রাখতে হবে।
রান্না করা ও বেঁচে যাওয়া খাবার
রান্না করা খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি রাখা ঠিক নয়। ফ্রিজে রাখলেও তা দ্রুত খেয়ে ফেলা ভাল।
রান্না করা মাছ ও মাংস ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভাল।
রান্না করা ভাত ও ডাল ২-৩ দিনের বেশি রাখা ঠিক নয়। ভাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে নিলেই ভাল।
রান্না করা সব্জি বা ভাজাভুজি ১-২ দিনের বেশি রাখা যাবে না।
রান্না খাবার বেশি দিন রাখলে তাতে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়। ছত্রাকের ক্ষতিকর মাইকোটক্সিন খাবারে মিশে গেলে তা থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে। এতে হার্ট, লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হয়।