মাত্র এক চিমটে হিং, তাতেই বদলে যায় খাবারের স্বাদ ও গন্ধ। বাঙালি থেকে অবাঙালি বাড়ির হেঁশেলে হিংয়ের কদর তাই দেখার মতো! কিন্তু তার মাঝেও লুকিয়ে থাকে অসাধু ব্যবসায়ীদের জালিয়াতি। তাই হিংয়ের মধ্যে মেশানো হয় সিন্থেটিক ডাই, লেড ক্রোমেট, মাটিজাতীয় পদার্থ বা স্টার্চ। এই সব রাসায়নিকই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। লিভারের রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএসএআই) জানিয়েছে, দোকান থেকে যে হিং কেনা হচ্ছে, তার সবটাই খাঁটি নয়। তাই বিশুদ্ধ হিং চেনার কয়েকটি পন্থা জেনে নেওয়া দরকার।
কোন কোন পন্থায় ভেজাল হিং চিনবেন?
পোড়ানোর পদ্ধতি: স্টেনলেস স্টিলের চামচে এক চিমটে হিং নিয়ে তা আগুনের উপর রাখুন। যদি আগুনের সংস্পর্শে এসে কর্পূরের মতো হিং জ্বলতে থাকে, তা হলে বুঝবেন, সে হিং খাঁটি। ভেজাল থাকলে আঁচের ছোয়া হিংয়ে লাগত না।
জলের পদ্ধতি: ১ চা-চামচ জলে ১ গ্রাম হিংয়ের গুঁড়ো মিশিয়ে ভাল করে নাড়িয়ে নিন। খানিক ক্ষণ অপেক্ষা করুন। খাঁটি হিং হলে গোটা জলে মিশে গিয়ে দুধের মতো গঠন তৈরি করবে। কিন্তু ভেজাল থাকলেই তা জলের তলায় থিতিয়ে যাবে।
আয়োডিনের পদ্ধতি: হিংয়ে স্টার্চ যোগ করা হয়, তাই আয়োডিনের পরীক্ষা করা খুব প্রয়োজনীয়। অল্প এক চা-চামচ হিংয়ে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন ঢেলে দিন। যদি হিং নীল হয়ে যায়, তা হলে বোঝা যাবে, তাতে স্টার্চ রয়েছে। রং পরিবর্তন না হলে বুঝবেন, খাঁটিই কিনেছেন।
খাঁটি হিং কেবল খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি থেকে যেতে পারে ভেজাল থাকলে। তা ছাড়া হিং আদপে স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। এতে থাকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার, ক্যালশিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট। হজমশক্তি বৃদ্ধি, গ্যাস-অম্বল দূর করা, এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে হিং অত্যন্ত কার্যকরী।