সমতল ছেড়ে পাহাড়ে গেলেই দেখা মেলে তাঁদের। বৌদ্ধ মঠ বা মনাস্ট্রির আশপাশে মেরুন রঙের অঙ্গবস্ত্র বা চীবরের উপর গাঢ় হলুদ রঙের চাদর জড়ানো, মুণ্ডিত মস্তকের ছোট-বড় সন্ন্যাসীরা। কারও বয়স আট তো কেউ আঠারো আবার কেউ মধ্যবয়সের দোরগোড়ায়। কোনও রোদ ঝলমলে দিনে হয়তো তাঁদের দেখা গেল অনেকে মিলে মাঠে ফুটবল খেলতে। আবার কখনও তাঁরা লাজুক ছাত্র। পিঠে ব্যাগ হাতে খাতা নিয়ে এগিয়ে আসা তরুণ সন্ন্যাসী দলের দিকে তাকালে কেউ লজ্জা পান, কেউবা মুচকি হেসে এগিয়ে যান। এঁরা প্রত্যেকেই সংসার ছেড়ে ত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। কিন্তু এত অল্পবয়সে সেই জীবনের সঙ্গে কী ভাবে মানিয়ে নেন তাঁরা? সাধারণ যুবকের মতো তাঁদেরও কি বিরিয়ানি, ভাজাভুজি, আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে হয়? আর ইচ্ছে যদি হয়ও, তাহলেই কি খেতে পান? এমন নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছে একটি ভিডিয়ো।
ভিডিয়োটি রেকর্ড করা হয়েছে এক মনাস্ট্রির রান্নাঘরে। সেটি পোস্ট করেছেন হিমাচল প্রদেশের স্পিতির এক বৌদ্ধ মঠের আবাসিক এক সন্ন্যাসী তেন জ়িন। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, মনস্ট্রির রান্নাঘরে অনেকে মিলে তৈরি করছেন রুটি। সার সার মোটা বাদামি গোল রুটি রাখা রয়েছে সার দেওয়া উনুনে। সেই দৃশ্যের ব্যাখ্যা দেয় নেপথ্যে তেন জ়িনের কণ্ঠস্বর। জানা যায়, রুটির নাম বোলেপ কোরকুন। পাহাড়ি ওই রুটি আর গ্লাসভর্তি চা-ই সে দিনের প্রাতরাশ।
মেনুতে রুটি আছে আবার আছে বিরিয়ানিও।
অবশ্য রোজই যে সন্ন্যাসীরা রুটি আর চা-এর মতো আড়ম্বরহীন খাবার খান, তা নয়। তেন জ়িন জানিয়েছেন, খাবারের মেনু রোজই বদলায় তাঁদের। এমনকি, বিশেষ বিশেষ দিনে বিরিয়ানিও হয়। মনাস্ট্রির রান্নাঘরে সেই বিরিয়ানি তৈরির দৃশ্যও দেখা যায় ভিডিয়োয়। বিশাল মাপের এক ডেচকিতে বেরেস্তা ছড়ানো হলুদ ভাত লোভনীয় দেখতে লাগছে ছবিতে।
কিছু দৃশ্যে ফ্রায়েড রাইস আর মোমোর মতো খাবার বানাতেও দেখা যায় সন্ন্যাসীদের। তেন জ়িন জানান, পুর ভরা ওই খাবারটির নাম চুরা বাকলাপ। সেটি এক ধরনের তিব্বতী খাবার। রুটির ভিতরে চুরা নামের এক বিশেষ ধরনের চিজ় দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত সুস্বাদু। তেন জ়িন জানিয়েছেন, মধ্যাহ্নভোজে এই সব খাবার বানানোর জন্য ভোর থেকেই কাজ শুরু করে দেন রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা সন্ন্যাসীরা, আর প্রাতরাশের প্রস্তুতি শুরু হয় রাত ১টা থেকে।
জোর কদমে চলছে বিরিয়ানি বানানোর প্রস্তুতি।
মঠের আবাসিক ছাত্র অনেক। প্রত্যেকেরই মাসে দু’বার করে রান্নাঘরে ‘ডিউটি’ পড়ে। তেন জ়িন জানিয়েছেন, এমনিতে তাঁদের প্রাতরাশের বোলেপ কোরকুন রুটি হয় অত্যন্ত নরম আর সুস্বাদু। কোনও দিন তার সঙ্গে চা থাকে, কোনও দিন থাকে তরকারি। তবে বিশেষ দিনে যখন একসঙ্গে অনেকে বসে খাবার বানান, তখন সেই খাবারের স্বাদ আরও বেড়ে যায়। তেন জ়িনের মতে পুরোটাই মিলেমিশে কাজ করার গুণ।