E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

হাফ ইলিশ

ঘড়িতে সকাল ন’টা। একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। ব্যাগের সঙ্গে ছাতা নিয়ে গুঁতোগুঁতি ঠোকাঠুকিতে নিমেষে ঝগড়া-তর্ক লেগে যাচ্ছে লোকজনের মধ্যে। গণেশের কোনও দিকে নজর নেই।

সুমন্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪১

ছবি: রৌদ্র মিত্র।

গণেশ বহু ক্ষণ শিকারি বেড়ালের মতো মাছের বাজারের কোণে ওত পেতে বসে আছে। আজ খালি হাতে ফিরলে চলবে না। রবিবারের মাছের বাজার। বিচিত্র সুর ও ভাষা মিলেমিশে একাকার। নিজের নিজের মাছের স্বাদ ও গুণের প্রচারে মুখর সবাই।

ঘড়িতে সকাল ন’টা। একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। ব্যাগের সঙ্গে ছাতা নিয়ে গুঁতোগুঁতি ঠোকাঠুকিতে নিমেষে ঝগড়া-তর্ক লেগে যাচ্ছে লোকজনের মধ্যে। গণেশের কোনও দিকে নজর নেই। তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে শেফালির কথা, “আজ যদি না আনো, তোমার এক দিন কি আমার এক দিন।”

শেফালিকে সেই ছোটবেলা থেকে চিনলেও ইদানীং কেমন অচেনা লাগে গণেশের। রাগ বরাবরই ছিল, এখন মেদ আর জেদ দুটোই বেড়েছে। আর নামে গণেশ হলেও, সে চিরকালই রোগা-পটকা। শেফালির পাশে হাঁটতে ওর বেশ লজ্জাই করে।

কিন্তু ওর জীবনে শেফালিই যে মোড় ঘুরিয়েছিল, সে কথা গণেশ কখনও ভুলবে না। ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর বাপটা পার্টির মিটিংয়ে কলকাতায় গিয়ে কোথায় হারিয়ে গেল। চার-চারটে ছেলেমেয়ের ঝক্কি পোহাতে না পেরে পালাতেও পারে। ওরা চার ভাইবোন ভেসে বেড়াতে লাগল শ্যাওলার মতো। গণেশ ছিল সবার ছোট। অখিলকাকা নিজের হোটেলে কাজে লাগিয়ে দিল গণেশকে, পাছে বখে যায়। কিছু দিনের মধ্যে বাকি তিন ভাইবোনেরও হিল্লে হয়ে গেল।

বছর কয়েক ঠিকঠাকই কাটল গণেশের। কিন্তু অখিলকাকা মোটে টাকাপয়সা ঠেকায় না। উঠতি বয়সের ছেলেপুলেদের হাতে একটু লাগে বইকি। জিজ্ঞেস করলে বলে, “সব জমা আছে, ঠিক সময়ে পাবি।” আর এমন সময় গণেশের সঙ্গে আলাপ জমে গেল প্রায় রোজ ওদের হোটেলে খেতে আসা ইকবাল চাচার। সে-ই প্রস্তাব দিল, কলকাতায় থাকা-খাওয়া সমেত কাজের। গণেশ ভিড়ে গেল ইকবালের দলে। ভিড়ে গেল মানে মারাত্মক ভাবে ভিড়ে গেল। যেখানে ভিড়, সেখানেই গণেশ, আর সেখানেই গণেশের হাতের সূক্ষ্ম কাজ। নামডাক হতে দেরি হল না।

সে বার পানাগড়ে দানবাবার মেলায় ডিউটি পড়েছিল গণেশের। টুকটাক কাজকম্ম করতে করতে, যখন বড় দাঁও মারার ধান্দায় ওর হাত নিশপিশ করছে, ঠিক তখনই শেফালির সঙ্গে দেখা। অখিলকাকার মেয়ে ওখানে মাসির বাড়িতে থাকে, তা তো আর গণেশ জানত না। আর গণেশকে দেখতে পেয়েই মেলার মাঠের মাঝখানে ওকে জড়িয়ে ধরে শেফালির হাপুসনয়নে সে কী কান্না! ছোট থেকেই গণেশ ওকে চেনে, জানে। সময় পেলেই বাবার হোটেলে এসে বসত। গণেশের ভালই লাগত গোলগাল মেয়েটাকে। কিন্তু তাই বলে ওই পুঁচকে মেয়েটা যে তখন থেকেই ওকে এমন ভালবাসত, তা গণেশ জানবে কী করে? ও ততদিনে বেশি রোজগারের চেষ্টায় অখিলকাকার হোটেল ছেড়ে কলকাতায়।

এ-সব বেশ কয়েক বছর আগের কথা। এর মধ্যে হঠাৎ এক দিন অখিলকাকা ঘণ্টাখানেকের বুকের ব্যথায় নিখিল ভুবন ছেড়ে গেলেন। বন্ধ হল ‘অখিল হিন্দু হোটেল’। একমাত্র মেয়ে শেফালিকে নিয়ে ওর মা যখন বিশ বাঁও জলে, তখন এক দিন শেফালির বড় মাসি আর মেসো এসে ওদের একতলা বাড়িটায় তালা মেরে বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে মা-মেয়েকে নিয়ে চলে এল বর্ধমানের কাঁকসা গ্রামে, পানাগড়ের কাছেই।

এই শেফালির কথা ফেলতে না পেরে, বিয়ে-থা করে, বড়বাজারে একটা গোডাউন-কিপারের চাকরি জুটিয়ে, শেফালিদের পুরনো বাড়িতে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে লাগল গণেশ। শুধু একটা বিষয়ে গণেশকে সদা সতর্ক থাকতে হয়, সেটা হল মাছ। হ্যাঁ, দু’বেলা শেফালিকে মাছের জোগান দিতে হয় ঠিকঠাক। আর কিছু না হোক, পাতে মনের মতো মাছ না পেলে মেজাজ সপ্তমে চড়ে যায় শেফালির। আর সেই মেজাজ আজ রবিবারে ঠান্ডা রাখতে সকাল থেকে মাছের বাজারে গণেশ।

“এই গণশা, তুই এখানে যে?” নীলমাধববাবুর প্রশ্নে থতমত খেয়ে গণেশ বলে, “এই একটু দেখছি।”

“বাজার আবার দেখার কী আছে?” চিংড়ি মাছের ডালার দিকে হাত বাড়ায় নীলুবাবু।

“জেঠু, আজকের দিনে ইলিশ কিন্তু জমে যাবে একদম।”

“তা জমত, কিন্তু আজ নাতিসাহেব আসছে আমাদের কাছে মাস তিনেক পরে, তার আবার চিংড়ি ফেভারিট। পরের সপ্তায় দেখা যাবে।”

আবার পরের সপ্তাহ! ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে গণেশ দৃষ্টি ছুড়ে দেয় অন্য দিকে। চেনা মুখের খোঁজে, অথবা অচেনা হলেও অসুবিধে নেই। তার সঙ্গে ভাব জমিয়ে নিজের ধান্দা মানে আধাআধি বখরার ব্যাপারটা হাসিল করতে পারলেই হল। আজ যে ওকে পারতেই হবে।

আরে! ওই তো শুকদেব আসছে। গণেশ নড়েচড়ে বসল।

“কী রে, কী বলেছে বৌ আজ?”

ভুরু কুঁচকোয় শুকদেব সাহা, “কিসের কী বলবে বৌ?’’

“ওই আজ কী মাছ কিনবি-টিনবি, এই ব্যাপারে আর কী।”

“ও তাই বল, তা সে ঘর থেকে কী বলবে শুনি? বাজারে তো এসেছি আমি। যা ভাল বুঝব, আর দামে পোষাবে, তা-ই তো কিনব। এর মধ্যে আবার বৌ আসে কোথা থেকে গনা?”

এমন বেমক্কা প্রশ্নে গণেশ আমতা আমতা করে, “তবে গিন্নিরও ইচ্ছে-টিচ্ছে থাকে তো, একটু-আধটু না শুনলে...” বলতে বলতে টুক করে গণেশ শুকুর কানের কাছে মুখটা নিয়ে গিয়ে বলে, “আজ ইলিশ হলে ফাটাফাটি জমে যাবে, কী বলিস?”

ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখ ভেংচে শুকু তেরিয়া হয়ে বলে ওঠে, “তুই পয়সা দিবি? আজ মাসের কত তারিখ ভুলে গেছিস বুঝি? যত্ত সব...”

গণেশ বেজার মুখে সরে আসে।

এদিকে রোববারের বাজার পুরোদমে জমে উঠেছে। গণেশ মুড ঠিক রাখতে বিড়ি ধরায়।

ওদিক থেকে অশোক হাঁক পাড়ে, “কী গো গণেশদা, আজ কী নেবে?”

অশোকের প্রতি রোববারের পার্মানেন্ট খদ্দের গণেশ।

ও জানে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা ধরনের মাছ কেনার অভ্যেস আছে গণেশের। তবে সেটা কী কারণে, তা অশোক জানে না অবশ্য।

“দেখি, একটু ভাবছি!” ছোট্ট জবাব গণেশের। ওর চোখ দুটো ঘুরছে চার দিকে। শেফালির কথা আজ রাখতেই হবে।

আরে! ওই তো ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, পাশের পাড়ার দীপ্তেনদা। মজার মানুষ, মুখে হাসি সব সময়। শয়ে শয়ে মানুষের লাখ লাখ টাকার দায়িত্ব নিয়ে কী ভাবে যে রাতে ঘুমোন দীপ্তেনবাবু, ওর অবাক লাগে।

“কেমন আছেন দাদা?’ গণেশ এগিয়ে যায়। পড়াশোনায় খুব বেশি এগোতে না পারলেও যে কোনও লোকের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে কথা বলায় ও বরাবরই চৌকস।

“এই ভাই, চলছে যা হোক করে। আর তিনটে বছর কাটলে বাঁচি।”

গণেশ ভাবে, এখন ও বাঁচে একটা পার্টনার জোগাড় করতে পারলে।

“আজ সকাল থেকে যা বৃষ্টি শুরু হয়েছে, খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা দারুণ জমবে, কী বলেন দাদা?”

“তা তো জমত গণেশ ভাই, কিন্তু ইলিশের গায়ে তো ফোর-ফর্টি ভোল্ট লাগানো। ধারেকাছে যাওয়া যাচ্ছে না। খিচুড়ির সঙ্গে ওমলেটই ভরসা ভায়া...” এগিয়ে যান দীপ্তেন মিত্র।

গণেশ একই সঙ্গে অবাক ও বিরক্ত। এদের মতো লোক যদি এই ধরনের কথা বলে, তা হলে ওর মতো ছেলের তো ইলিশের এক মুঠো আঁশ আর কাঁটা ব্যাগে ভরে বাড়ির দিকে হাঁটা দেওয়া উচিত। বাঙালি এমন বেরসিক হয়ে উঠল কবে থেকে?

দশটা বেজে গেছে। রবিবারের পিক আওয়ার্স। মৎস্য-ব্যবসায়ীদের সারা সপ্তাহের মূলধন জোগাড়ের মস্ত বড় সময়। ঝপাঝপ পাল্লায় পড়ছে আর নামছে গোটা গোটা রুই-কাতলা-ভেটকি। চিংড়ির সাইজ় আর দাম নিয়ে চলছে নিরন্তর তর্কাতর্কি। পমফ্রেট বাছাই চলছে একমনে।

বাটা না পারশে, কোন মাছের সর্ষে-ঝাল বেশি ভাল হয়, তাই নিয়ে লেগে গেছে দুই নব্যবিবাহিত যুবক–যুবতীর মধ্যে। গুগল-সার্চ চলছে।

ওদিকে ট্যাংরা বাছতে গিয়ে এক বয়স্ক লোকের আঙুলের ডগায় প্যাঁট করে কাঁটা ফুটে রক্তারক্তি কাণ্ড। শুধু শুধু গালমন্দ জুটল ছোকরা বিক্রেতার কপালে ঠিক ভাবে ট্যাংরা মাছগুলো না রাখার জন্য।

এদিকে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। গণেশ ভিতর-ভিতর বেজায় অস্থির। আজ গোল ওকে করতেই হবে।

“এ তো খোকা দেখছি। এত ছোট ছোট ইলিশ আনলে বড় আর হবে কী করে? সরকারের কোনও দিকে নজর নেই। এ তো ক্রিমিনাল অফেন্স।” হোমরা চোমরা গোছের মোটাসোটা চেহারার এক ভদ্রলোক কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে এই সব বলে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

অশোক কাঁচুমাচু মুখে বলে, “আমার কী দোষ স্যর? আড়তে যেমন আসে...”

সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করতেই লোকটি ধমকায়, “তোকে কে দোষ দিয়েছে? আমি মৎস্য দফতরের কথা বলছি। মাছ-ভাত খেয়ে সব শালা ঘুমোয়। এই মাছ কেনাও অপরাধ। যে কিনবে, তার মানে এই অন্যায়কে সে এনকারেজ করছে, তাই নয় কি?”

আশপাশের লোকজন ‘ঠিকই তো’, ‘একদম তাই,’ ‘ভীষণ অন্যায়!’ ‘একেবারে ঠিক বলেছেন।’ এই সব বলে দিল লোকটাকে বাড় খাইয়ে।

গণেশের ষষ্ঠেন্দ্রিয় সজাগ হয়ে ওঠে। এ লোকটাকে যে করেই হোক থামাতে হবে। এই ধরনের পাবলিক সাংঘাতিক আইনবাজ। কথায় কথায় সেকশন, ডায়েরি, কেস-কামারি এদের কাছে জল-ভাত। আর এখন তো পকেটে পকেটে মোবাইল ফোনের দৌলতে মুহূর্তের মধ্যে যে কোনও কেস ভাইরাল। তাই এই ভরা বাজারে লোকটা যদি ক্যাঁচাল শুরু করে দেয়, তা হলে তো ওর হাফ-ইলিশ কেনা শিকেয় উঠবে আর বাড়ি ফিরলে ওর কপালে কী জুটবে, তা একমাত্র শেফালিরানিই জানে।

সুতরাং, আর দেরি নয়, যা করার এক্ষুনি করতে হবে। গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল গণেশ।

ওদিকে ভদ্রলোকটির লেকচার চলছে, “এ নিয়ে একটা অ্যাজিটেশন হওয়া দরকার। আমি এক্ষুনি ছবি, ভিডিয়ো, ফেসবুকে পোস্ট করছি, আর কালকেই ডিএম আর মিনিস্টারকে মেল করছি...’

মিলে যাচ্ছে গণেশের আশঙ্কা।

“এই অন্যায়ের জোরদার প্রোটেস্ট চাই।”

“বাজার কমিটির কি কোনও রেস্পনসিবিলিটি নেই?”

“এক্ষুনি ফেসবুক লাইভ করুন তো দাদা।”

“কেউ ইলিশ কিনবেন না, একটা মাস পিটিশন চাই।“

নানা লোকের রকমারি মন্তব্য আর সাজেশনে ছুটির দিনের বাজার ডবল সরগরম। আশপাশে খবর ছড়িয়ে যাওয়ায় মেন রোড থেকে মাছের বাজারে পিলপিল করে লোক ঢুকছে তামাশা দেখতে।

আর সেই আইনবাজ লোকটি পাবলিকের বিপুল সমর্থন পেয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে বলে উঠলেন, “তা হলে সবাই যখন বলছেন, তখন দেরি না করে ফেসবুক লাইভটা শুরু...” এই বলে ভদ্রলোক পাঞ্জাবির পকেট থেকে মোবাইল বার করার জন্যে হাতটা ঢুকিয়েই চিৎকার করে উঠলেন, “আরে, কী হল! আমার ফোনটা কোথায়?” বলেই হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, “আমার বিয়াল্লিশ হাজারের ফোনটা কে নিলি রে শুয়োরের বাচ্চা? দাঁড়া ঠিক ধরব…” বলতে বলতে লোকটি প্রায় দেড়শো কিলোমিটার স্পিডে দৌড়লেন চেঁচাতে চেঁচাতে, “এ তো দিনে ডাকাতি! এ শালা কোথায় বাস করছি আমরা?”

ভিড়ের মধ্যে থেকে কে যেন ফুট কাটল, “খোকা ইলিশের দেশে।”

আর সেই লম্বা-চওড়া হোমরা-চোমরা লোকটির দৌড়ের চেষ্টায় বেদম ধাক্কাধাক্কিতে মজা দেখতে থাকা সাধারণ মানুষ এ-ওর ঘাড়ে, ওর কনুই তার চশমায়, অপরিচিত পুরুষ-মহিলার ধাক্কাধাক্কিতে অল্প রাগারাগি-একটু ভাল লাগা। মিনিটের মধ্যে বাজার যেন কুরুক্ষেত্র !

“দেখলে তো কেসটা গণেশদা? বেকার ক্যাঁচাল যত… ফালতু পাবলিক যত! দিয়েছিল এক্ষুনি বাঁশ আমায়। ভাগ্যিস ফোনটা পকেটমারি হল… না হলে যে কী হত!”

“আমারও তো ইলিশ কেনার বারোটা বেজেছিল প্রায়...”

“অ্যাঁ! তুমি ইলিশ নেবে? এতক্ষণ বলোনি কেন গণেশদা?”

“আরে এত ক্ষণ তো আমি পার্টনার খুঁজছিলাম, যদি কেউ হাফ নেয়, আমি তা হলে বাকি হাফটা… আগে এমন ভাবে বহু বার কিনেছি। আজকাল মিলেমিশে কেনাকাটার রেওয়াজটাই উঠে গেছে নাকি রে?”

“যা বলেছ দাদা। সে জমানা আর নেই এখন। একটু দাঁড়াও। সলিড জিনিস দেব তোমায়… উফফ! ওই হারামিটা আর একটু হলেই বাজারের বারোটা… আর কী টাইমিং মাইরি! গুরুদেবকে পেলে পেন্নাম ঠুকতাম, প্রাইজ় দিতাম আমি।” বিপদ কেটে যাওয়ায় ফুরফুরে মেজাজ অশোকের।

“বলিস কী! প্রাইজ় দিবি? তা তুই প্রাইজ়টা কী দিবি শুনি? হাফ-ইলিশ?” চোখ বড় বড় করে বলে ওঠে গণেশ।

“হাফ কেন? গোটা ইলিশই প্রাইজ় দেব। যা বাঁচিয়েছে আজ আমাকে! কিন্তু কোথায় পাব ওস্তাদকে! সে তো মাল পাচার করতে ব্যস্ত কোথাও।” আজ দরাজ দিল অশোকের।

“তা হলে এই নে ব্যাগটা, ভিতরের মালটা লোকটাকে ডেকে দিয়ে দিস কিছু একটা বলে, বলিস কোথাও পড়ে ছিল, তুই দেখতে পেয়ে তুলে রেখেছিস… আর আমার প্রাইজ়টা দে দিকি জলদি, তোর বৌদি সেই সকাল থেকে হাপিত্যেশ করে বসে আছে জমিয়ে রাঁধবে বলে…”

অশোক ব্যাগটা হাতে নিয়ে হাঁ করে চেয়ে রইল গণেশের দিকে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Short Story Bengali Literature Bengali Story

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy