Advertisement
E-Paper

আমেরিকার প্রাক্তন ‘গুপ্তচর’ ভেঙে চুরমার! সোভিয়েতের উপরে নজর রাখতে পাঠানো হয়েছিল মহাকাশে

মহাকাশে পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর খুব কাছ থেকে রাশিয়ার রাডারে নজরদারি চালাতে থাকে সেই মার্কিন উপগ্রহ। পৃথিবীর কাছে থেকে কাজকর্ম করতে থাকে সে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯
US secret spy satellite has shattered into pieces, posing danger

আমেরিকার ‘স্পাই স্যাটেলাইট’-এর ধ্বংসাবশেষ থেকে কি ক্ষতি হবে অন্য উপগ্রহের? ছবি: সংগৃহীত।

সোভিয়েত ইউনিয়নে নজরদারি চালাতে ১৯৮৮ সালে ‘স্পাই স্যাটেলাইট’ মহাকাশে পাঠিয়েছিল আমেরিকা। সেই উপগ্রহ ধ্বংস হয়ে গেল মহাকাশে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার উপরে ছড়িয়ে পড়ে তার ধ্বংসাবশেষ। কী ভাবে তা ধ্বংস হল, সেই কারণ অবশ্য জানা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, ওই ধ্বংসাবশেষ থেকে কি ক্ষতি হবে অন্য উপগ্রহের? যদিও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সেই সম্ভাবনা নেই।

মহাকাশে অনেক কিছু নেই হয়তো, কিন্তু তা বলে পৃথিবীর সৈনিক সেখানে নেই, তা ভাবলে চলবে না। আমেরিকা স্বীকার করে নিয়েছে, ১৯৬০ সালের ২২ জুন থেকে তারা বিভিন্ন দেশের উপরে গোপনে নজরদারি চালানোর জন্য মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাচ্ছে। সেই সময় তারা মোতায়েন করেছিল সোলরাড ১। সোভিয়েত ইউনিয়নের রাডার সঙ্কেত, নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করত সেই উপগ্রহ।

১৯৮৮ সালে সেই উদ্দেশ্যে টাইটান ২ রকেটে ইউএসএ ৩২ উপগ্রহ পাঠায় আমেরিকা। তার সাঙ্কেতিক নাম ছিল ফারাহ ৩। আমেরিকার অভিনেত্রী ফারাহ ফসেট-এর নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই নামকরণ হয়েছিল। আমেরিকা চেয়েছিল, তাদের এই গুপ্তচর উপগ্রহের বিষয়ে রাশিয়া যাতে কোনও মতেই কিছু জানতে না পারে।

মহাকাশে পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর খুব কাছ থেকে রাশিয়ার রাডারে নজরদারি চালাতে থাকে সেই মার্কিন উপগ্রহ। পৃথিবীর কাছে থেকে কাজকর্ম করতে থাকে সে। কত দিন সেই ফারাহ ৩ সক্রিয় ছিল, তা অবশ্য জানা যায় না। তবে ২০২১ সালেও ফারাহ ৩ এবং তার এক উত্তরসূরি ফারাহ ৫-কে লো আর্থ অরবিট (লিও)-তে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল।

সূত্রের খবর, ১৩ সেপ্টেম্বর সেই ফারাহ ৩ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। কী ভাবে, তা স্পষ্ট নয়। স্পেসওয়েদার ডট কম-এর দাবি, ওই উপগ্রহের ব্যাটারি ফেটে বিপত্তি হতে পারে। বা কোনও ধূমকেতু বা মহাকাশযানের ভগ্নস্তূপের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরেও তা ধ্বংস হতে পারে। তবে তার জেরে লিও-তে থাকা অন্য উপগ্রহের কোনও ক্ষতি হবে না। গবেষকেরা বলছেন লিও-তে এমনিই ভিড় বেড়ে গিয়েছে উপগ্রহদের। তাই ভবিষ্যতে সংঘাতের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

সেই সঙ্গে আরও একটি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের। তাঁদের মতে, এ ভাবে উপগ্রহ ধ্বংস হতে থাকলে মহাকাশে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যাবে। নতুন উপগ্রহ নিষ্ক্রিয় হওয়ার পরে যাতে আবর্জনায় পরিণত না হয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কড়া নিয়ম আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পৃথিবীর কক্ষপথকে সুরক্ষিত রাখতে মূলত দু’টি উপায়ে কাজ চলছে— নতুন উপগ্রহের আয়ু ফুরিয়ে যাওয়ার পরে তা সরিয়ে ফেলা এবং কক্ষপথে থাকা পুরোনো আবর্জনা পরিষ্কার করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফসিসির মতো সংস্থাগুলো এখন নিয়ম করেছে যে, কাজ শেষ হওয়ার ৫ বছরের মধ্যে উপগ্রহকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ২৫ বছর।

নতুন উপগ্রহগুলিতে অবশিষ্ট জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কাজ শেষ হলে সেগুলিকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে এনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা যায়। অভিযান শেষে উপগ্রহে ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে কক্ষপথে কোনও বিস্ফোরণ না ঘটে। ফারাহ ৩-কে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল কি না, জানা যায়নি। তবে আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, ওই উপগ্রহের কারণে অন্য উপগ্রহের ক্ষতিসাধন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

Satellite Data USA Russia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy