প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ভরাডুবি বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্তেরা দ্বিতীয় টেস্টে হারলেন ইনিংস এবং ৫১ রানের ব্যবধানে। ডারউইনে চার দিনে হারের বদলা প্যাট কামিন্সেরা ম্যাকের ২২ গজে দু’দিনেই নিয়ে নিলেন। সিরিজ় ১-১ ফলে ড্র হল।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ৬৪ রানে শেষ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করে ২১০ পান। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু আবার তাদের ইনিংসে ধস নামে। ৯৫ রানেই শেষ হয়ে তাদের ইনিংস। নাজমুল (৩১) এবং মুশফিকুর রহিম (অপরাজিত ২৯) ছাড়া কেউ দু’অঙ্কের রান করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ক দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৪ উইকেট। বাংলাদেশের বাকি উইকেটগুলি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কামিন্স এবং নাথান লায়ন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ রানে ৩ হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কামিন্স-স্টার্ক জুটির সামনে অসহায় দেখিয়েছে নাজমুলের দলের উপরের দিকের ব্যাটারদের। দুই ওপেনার তানজ়িদ হাসান (৯) এবং শাদমান ইসলাম (১) ব্যর্থ। তিন নম্বরে নামা মোমিনুল হকও (০) ভরসা দিতে পারেননি। আরও এক বার রান পেলেন না বাংলাদেশের সাদা বলের অধিনায়ক লিটন দাস (০)। টেস্ট দলে তাঁর থাকা নিয়ে এ বার প্রশ্ন উঠতেই পারে। মেহদি হাসান মিরাজ (১), হাসান মাহমুদও (২) কিছু করতে পারেননি। ফলে ২১০ রান করেই মাত্র দু’দিনে ইনিংসের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। স্টার্ক ৪ উইকেট নিয়েছেন ৩৯ রানে। কামিন্সের ৩ উইকেট ১০ রানে। এ ছাড়া লায়ন ৩ উইকেট নিয়েছেন ২৫ রান দিয়ে।
এর আগে শনিবার অপরাজিত থাকা অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন ৬৭ রান করে আউট হন। লায়ন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩২ রান করে। জশ হেজ়লউড করেন ৬ রান। শোরিফুল ইসলাম ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর পারফরম্যান্সের দাম দিতে পারলেন না সতীর্থেরা। ১৭ রানে ১ উইকেট তাইজুল ইসলামের। তাসকিন আহমেদ এবং মিরাজও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারলেও এ বারের অস্ট্রেলিয়া সফর সে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নেবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে জয় পেয়েছেন নাজমুলেরা। পাশাপাশি টেস্ট সিরিজ়ও ড্র করেছেন। সার্বিক ভাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ বলা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কামিন্সদের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় ড্র করাও সহজ কাজ নয়। এই কৃতিত্ব নাজমুলের দলের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না কেউ।