এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তবে দুই দলের ক্ষেত্রে দু’রকম পরিস্থিতি দেখা গেল। মাঠে না নেমেই জিতে গেল বাংলাদেশ। অন্য দিকে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হিমশিম খেতে হল। তবে এশিয়াডের কোয়ার্টার ফাইনালে কোনও অঘটন ঘটল না।
জাপানের নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির জেরে চিন বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের টসও করা যায়নি। খেলা ভেস্তে যায়। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ আইসিসি ক্রমতালিকায় উপরে রয়েছে, তাই তারা সেমিফাইনালে ওঠে।
ক্রমতালিকায় বাংলাদেশের মহিলা দল রয়েছে ১০ নম্বরে। অন্য দিকে চিন ৩৮ নম্বরে। তাই বাংলাদেশ শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১০ সাল থেকে তিন বার এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সুযোগ পেয়েছে চিন। কিন্তু এবারও হতাশা দিয়েই তাদের খেলা শেষ হল।
২০২৩ সালে চিনে এশিয়ান গেমসেও কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। আরও এক বার সেই ছবি দেখা গেল। মাঠে নামলে হয়তো বাংলাদেশকে টক্কর দিতে পারত চিন। কিন্তু সেই সুযোগই পেল না তারা। ভারত জাপানকে হারালে সেমিফাইনালে আবার ভারত-বাংলাদেশ। অর্থাৎ, এশিয়া কাপের ছবিই দেখা যাবে।
বাংলাদেশ-চিন ম্যাচ না হলেও তার পরে পাকিস্তান বনাম তাইল্যান্ড ম্য়াচ হয়েছে। যদিও ২০ ওভারের খেলা হয়নি। মাঠ ভিজে থাকায় ওভার কমিয়ে ১১ করা হয়। প্রথমে ব্যাট করে ১১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান করে তাইল্যান্ড। নান্নাপাচ কোনচারোয়েনকাই ৪৯ রান করেন।
আরও পড়ুন:
মহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে ১১ ওভারে ৯২ রানের লক্ষ্য সহজ নয়। আগ্রাসী ব্যাটিং ছাড়া উপায় ছিল না পাকিস্তানের। সেটা করতে গিয়ে পর পর উইকেট পড়ে। শেষ ২৪ বলে ৪৬ রান করতে হত তাদের। দেখে মনে হচ্ছিল, দুর্বল তাইল্যান্ডের কাছে হেরে যাবে তারা।
ঠিক তখনই আরও এক বার পাকিস্তানকে উদ্ধার করেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ১৩ বলে ২১ রান করেন তিনি। এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন ফাতিমা। সেই ওভারে আসে ২৫ রান। সেখানেই খেলা ঘুরে যায়।
শেষ পর্যন্ত দু’বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে ম্যাচ জেতে পাকিস্তান। তবে তাইল্যান্ডকে হারাতেই তাদের যা অবস্থা হল তাতে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার সামনে পড়লে আরও এক বার ফাইনালে ওঠা কঠিন হবে ফাতিমাদের। কয়েক দিন আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছে পাকিস্তান। আরও এক বার সেই ছবি দেখা যেতে পারে।