প্রতিভা থাকলেই যে সব সময় সফল হওয়া যায় না, ভারতীয় ক্রিকেটে সেই উদাহরণ একাধিক রয়েছে। তেমন অবস্থা যাতে বৈভব সূর্যবংশীর না হয় তার জন্য ভারতের ১৫ বছরের ক্রিকেটারকে সতর্ক করলেন রবিন উথাপ্পা। বিনোদ কাম্বলি ও পৃথ্বী শ’য়ের উদাহরণ দিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রাক্তন ক্রিকেটার।
উথাপ্পার মতে, সাদা বলের ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরের চেয়েও বড় ব্যাটার হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বৈভবের। একটি ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, “সাদা বলের ক্রিকেট বৈভব সচিন পাজির থেকেও বড় ক্রিকেটার হতে পারে। কিন্তু ও কী ভাবে নিজেকে সামলাচ্ছে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখেছি কাম্বলি ও পৃথ্বীর কী হাল হয়েছে। ১৭-১৮ বছর বয়সে ওদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। দু’জনের কেরিয়ার কতটা নীচে নেমে গিয়েছে। বৈভবকে সেই খেয়াল রাখতে হবে।”
ভারতীয় ক্রিকেটে প্রায় একই সময়ে অভিষেক হয়েছিল সচিন ও কাম্বলির। সেই সময় কাম্বলিকে সচিনের থেকেও প্রতিভাবান ক্রিকেটার ধরা হত। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরেই তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়। উচ্ছৃঙ্খলতা, অনিয়মিত যাপন নষ্ট করে দিয়েছিল তাঁকে। একই অবস্থা হয়েছে পৃথ্বীর। অধিনায়ক হিসাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর ভারতের বড়দের দলে দুর্দান্ত অভিষেক হয়েছিল তাঁর। কিন্ত তিনিও উচ্ছৃঙ্খলতার খেসারত দিয়েছেন। তাই তাঁদের উদাহরণ টেনে বৈভবকে সতর্ক করেছেন উথাপ্পা।
আরও পড়ুন:
উথাপ্পার মতে, বৈভবের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এ বার শুরু হবে। কত বছর ধরে সে খেলতে পারবে, সেটাই তিনি দেখতে চান। উথাপ্পা বলেন, “এ বার বৈভবের আসল পরীক্ষা। ও কি টানা পাঁচ বছর এই ফর্মে খেলতে পারবে? ওর বয়স এখন ১৫। এই সময় মনঃসংযোগ ধরে রাখা কঠিন। নানা রকম প্রলোভন আসবে। ও খুব বেশি বিজ্ঞাপন করে না। সেটা আমার ভাল লাগে। কিন্তু তিন বছর পর তো ওকে নিয়ে আরও উন্মাদনা হবে। সেটা ও সামলাতে পারবে তো?”
এই পরিস্থিতিতে সঠিক দিশা দেখানোর লোক বৈভবের প্রয়োজন। নইলে পথ ভুল হতে পারে বলে মনে করেন উথাপ্পা। তিনি বলেন, “কেরিয়ারে চড়াই-উতরাই থাকবে। কঠিন সময় ও কী ভাবে সামলাবে সেটাই আসল। এই সময় সঠিক মানুষ ওর পাশে প্রয়োজন। তারা ওকে সামলাবে। রক্ষা করবে। আশা করছি, বৈভব সব সামলে সামনের দিকে এগোবে।”