বার বার একই ভুল। তবু কোনও শিক্ষাই নিচ্ছেন না ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। একই ভুল বার বার করে চলেছেন তাঁরা। প্রতি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা, বোলার খারাপ পারফরম্যান্স ডুবিয়েই চলেছে ভারতকে। বৃহস্পতিবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতেও হারল ভারত। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ইংল্যান্ড সফরে সিরিজ় হাতছাড়া হল তাদের। প্রথমে ব্যাট করে ১৫৮/৭ তুলেছিল ভারত। জবাবে ৯ উইকেট বাকি থাকতেই জিতল ইংল্যান্ড। ফলাফল দেখেই বোঝা গিয়েছে কতটা সহজে জিতেছে ইংল্যান্ড। ভারতের বোলারেরা কোনও প্রতিরোধ গড়তেই পারেননি।
তৃতীয় ম্যাচে হারের পর ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরের মুখে এসেছিল ‘রিসেট’-এর প্রসঙ্গ। আর ক’টি ম্যাচ লাগবে ‘রিসেট’ হতে, সেই প্রশ্ন তাঁকে করা যেতে পারে। আয়ারল্যান্ডের কাছে প্রথম বার টি-টোয়েন্টি সিরিজ় হারে বিপদ সংকেত লক্ষ করা গিয়েছিল। দেখা গেল, ইংল্যান্ড সফরে তা আরও অনেক বেড়েছে। যে টি-টোয়েন্টি দল কিছু দিন আগেও অপ্রতিরোধ্য ছিল, তাদের এখন যে পারছে হারিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। ন্যুনতম প্রতিরোধও নেই ভারতের খেলায়।
আইপিএল দেখে ভারতের দল নির্বাচন অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। সেই ফর্মুলা যে প্রতি বার কাজে লাগবে এমনটা নয়। আইপিএলে পঞ্জাব কিংসকে দু’বার সফল ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর আচমকাই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে শ্রেয়সের হাতে। ছ’টি ম্যাচ হয়ে গেল। এখনও জয়ের মুখ দেখতে পেলেন না তিনি। তাঁর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের হাতে চুনকাম হওয়া তো রয়েছেই। ইংল্যান্ডেও ভারত পরের ম্যাচ জিততে না পারলে চুনকাম হতে হবে।
বৈভব সূর্যবংশী বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ভাল খেলার পর তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হল ইংল্যান্ডে। দু’-একটি ম্যাচ খারাপ খেলতেই বসিয়ে দেওয়া হল সঞ্জু স্যামসনকে। ফলাফল? বৈভব একটি ম্যাচেও ২০ পেরোতে পারেননি। বার বার একই রকম বলে আউট হচ্ছে। এ দিনও জফ্রা আর্চারের একটি শর্ট বলে চালাতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিল। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর, ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকেরা বৈভবকে কবে বোঝাবেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব বলে চালানো যায় না! এটা আইপিএল নয়। আইপিএলে একটি ম্যাচ হারলেও পরের ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্মম। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বৈভব সাফল্য পেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যে তার চেয়ে অনেক আলাদা, সেটা কে বোঝাবে তাকে?
তবে বৈভবকে একা দোষ দিয়েও লাভ নেই। বাকি ব্যাটারেরা যে ভাবে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন তাতে শেষ ম্যাচ জিতলেও অবাক হতে হবে। এ দিন অভিষেক শর্মা (১৬) ধীরে শুরু করেছিলেন। দু’টি চার মেরে খারাপ শুরু করেননি। কেন আদিল রশিদকে চালিয়ে খেলতে গেলেন সেটা তিনিই জানেন। ঈশান কিশন (৪) তার আগেই ফিরে গিয়েছিলেন জশ টংয়ের বলে।
আগের ম্যাচের মতো তবু ব্যাটিং অর্ডারে খামখেয়ালিপনা ছিল না। এ দিন শিবম দুবেকে তুলে আনা হয় উপরে। অধিনায়ক শ্রেয়সের সঙ্গে মিলে তিনি কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেন। খুবই ধীরে খেলছিলেন। আগ্রাসী হতে গিয়ে উইকেট খোয়ান শিবম (২২)। তিনি ফিরতেই ভারতের ব্যাটিং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ভারত যেটুকু রান তুলতে পেরেছে তা শ্রেয়সের জন্যই। চারটি চার এবং পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে তিনি ৪৯ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থেকে যান।
আরও পড়ুন:
-
ফুটবলারদের শট গ্যালারিতে চলে গেলেই বল নিয়ে কাড়াকাড়ি, তবু বল কেন রেখে দিতে পারেন না সমর্থকেরা?
-
উইম্বলডনে মেয়েদের ফাইনালে চেকিয়ার দুই খেলোয়াড়, গফকে হারালেন মুচোভা, কস্তিয়ুকের বিদায় নোসকোভার হাতে
-
ইংল্যান্ড সিরিজ় থেকে ছিটকে গেলেন কেকেআরের দুই ক্রিকেটার, শেষ দুই ম্যাচে নেই হর্ষিত এবং বরুণ, আবার দুই ক্রিকেটারের চোট
-
রেফারিদের ‘পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল ফিফা, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে কি ঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল? জানালেন কলিনা
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে জস বাটলারকে (৮) হারায় ইংল্যান্ড। এর পর এক বারও তাদের দেখে মনে হয়নি কোনও রকম অস্বস্তিতে রয়েছে। উল্টে এতটাই চালিয়ে খেলতে লাগলেন ফিল সল্ট এবং হ্যারি ব্রুক, মনে হল ম্যাচটা তাড়াতাড়ি শেষ করে ফ্রান্স বনাম মরক্কোর ম্যাচ দেখতে বসবেন। ৩৭ বল বাকি থাকতে রান তুলে দিল ইংল্যান্ড। ন’টি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ৪২ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকলেন সল্ট। ব্রুক অপরাজিত থাকলেন ৩৫ বলে ৭৯ রানে। মেরেছেন আটটি চার এবং চারটি ছয়।