দু’ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জয়। নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে শ্রেয়স আয়ারদের জয়রথ চলছেই। ভারতীয় দলের অধিনায়ক মুগ্ধ দুই সতীর্থের ব্যাটিংয়ে। খেলা শেষ হওয়ার পর অভিষেক শর্মা এবং বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ঢাকতে পারলেন না শ্রেয়স।
জয়ের জন্য ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের নিয়ে একরকম ছেলেখেলা করেছে বৈভব-অভিষেক জুটি। ওয়েলিংটনের ২২ গজকে সে সময় ভারতীয় দুই ব্যাটারের বাড়ির উঠোন মনে হচ্ছিল। জয়ের পর শ্রেয়সও বললেন, ‘‘এমন ব্যাটিং চোখের আরাম। আমি আর সঞ্জু স্যামসন যখন ব্যাট করতে নামলাম, তখনও বল ভাল সুইং করছিল। জানি না, তার মধ্যে আমাদের দুই ওপেনার কী করে ওরকম খেলল! ৫ ওভারে ১০০ রান করে দিল ওরা! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এরকম আগে কখনও দেখিনি।’’ শ্রেয়স যেন তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
আপনারা কি এমন ভয়ডরহীন ক্রিকেটই খেলতে চান? শ্রেয়স বললেন, ‘‘এটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে। আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেই হবে। এই জয়ের কৃতিত্ব সম্পূর্ণ অভিষেক এবং বৈভবের। ওরা ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলেছে। সিরিজ়ে আরও দুটো ম্যাচ রয়েছে। আশা করব, ওই দুটো ম্যাচেও ওদের এরকম ফর্মেই দেখতে পাব। পর পর ম্যাচ। সঙ্গে বিমানযাত্রার ধকল। তার পরেও ওদের এমন খেলায় অধিনায়ক হিসেবে আমি ভীষণ গর্বিত। দুর্দান্ত। মন ভরিয়ে দিয়েছে ওরা।’’
বোলিং নিয়ে বার বার সমালোচনা হচ্ছিল। তৃতীয় ম্যাচে এসে অনেকটা ভাল দেখাল। কী ভাবে সম্ভব হল এই পরিবর্তন? শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘আমরা বল করার সময় শুরুর দিকে ভালই রান হচ্ছিল। যে কোনও লেংথের বলেই রান হয়ে যাচ্ছিল। বোলারদের তখন বলি বেশি ইয়র্কার করার চেষ্টা করতে। তাতে কাজ হয়। ওভারপ্রতি ১০ রানের কমে আটকে রাখা গিয়েছে। নিউ জ়িল্যান্ডকে ২০০-র মধ্যে আটকে রাখাই পরিকল্পনা ছিল আমাদের। তাতে আমরা সফল।’’
মঙ্গলবারের ম্যাচে ১৯ বলে ৪৫ রান করেছে বৈভব। ৪টি চার এবং ৪টি ছয় মেরেছে ১৫ বছরের ব্যাটার। অভিষেক ছিলেন আরও আগ্রাসী। তাঁর ৩৮ বলে ১১৩ রানের ইনিংসে রয়েছে ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কা। প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতেই সিরিজ় জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। বাকি দু’টি ম্যাচেও জয় ছাড়া কিছু ভাবছেন না শ্রেয়সেরা। সিরিজ়ের চতুর্থ ম্যাচ অকল্যান্ডে, আগামী শুক্রবার।