চাপে যশস্বী জয়সবাল। যতই ভারতীয় দল তাঁর পাশে দাঁড়ান না কেন, বড় শাস্তি পেতে পারেন তিনি। শ্রীলঙ্কার পেসার আসিথা ফার্নান্ডোকে গুঁতো মারায় আজীবন নির্বাসিত হতে পারেন ভারতীয় ব্যাটার।
ক্রিকেট মাঠে কোনও ক্রিকেটারকে শারীরিক আঘাত করলে তাকে লেবেল ৪ অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হতে পারে। আইসিসি-র নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও ক্রিকেটার, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা সাপোর্ট স্টাফকে শারীরিক আঘাত করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে ২.১৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে হিংসার প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে ২.১৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হতে পারে।
আইসিসি-র নিয়মে বলা হয়েছে, লেবেল ৪ অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে পাঁচটি টেস্ট বা ১০টি এক দিনের ম্যাচ থেকে শুরু করে আজীবন নির্বাসিত করা হতে পারে। কিন্তু যদি ম্যাচ রেফারির মনে হয়, অনিচ্ছাকৃত ভাবে কোনও ক্রিকেটার অপর ক্রিকেটারকে আঘাত করেছেন, সে ক্ষেত্রে তাকে লেবেল ১ অপরাধ ধরে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি-র ৫০ শতাংশ কেটে নেওয়া হতে পারে। তাঁকে ১ বা ২ ডি-মেরিট পয়েন্টও দেওয়া হতে পারে।
অর্থাৎ, যশস্বী কী শাস্তি পাবেন, তা পুরোটাই নির্ভর করছে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্টের উপর। খেলা শেষে পাইক্রফ্ট যে রিপোর্ট জমা দেবেন, সেখানে তিনি কী লিখবেন, সে দিকে তাকিয়ে সকলে। শ্রীলঙ্কাও পুরো বিষয়টি পাইক্রফ্টের উপরেই ছেড়েছে।
আরও পড়ুন:
ভারতের ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে আসিথা ফার্নান্ডো বোল্ড করেন যশস্বীকে। ভারতীয় ব্যাটার বোল্ড হওয়ায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ফার্নান্ডো-সহ শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরা। সে সময় ফার্নান্ডোকে উত্তেজিত ভাবে কিছু বলতে দেখা যায়। আউট হয়ে তাঁদের পাশ দিয়েই সাজঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন যশস্বী। হঠাৎ করেই ফার্নান্ডোর কোনও মন্তব্য বা আচরণে মেজাজ হারান। পিছন ঘুরে শ্রীলঙ্কার বোলারের দিকে এগিয়ে যান ভারতীয় ওপেনার। তার পর দু’জনকে উত্তেজিত ভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। এ সময়ই দেখা যায় যশস্বী মাথা দিয়ে গুঁতো দিচ্ছেন ফার্নান্ডোকে। তবে উত্তেজনা বেশি দূর গড়ায়নি। শ্রীলঙ্কার বাকি ক্রিকেটারেরা পরিস্থিতি সামাল দেন।
ওই ঘটনার পর অবশ্য যশস্বীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। প্রথম দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ওরা যশস্বীকে কিছু একটা বলেছিল। তার কারণেই মুহূর্তের উত্তেজনায় ওই ঘটনা ঘটেছে। আমার মনে হয় না, যশস্বী ওর খুব কাছে গিয়েছিল। যা হয়েছে, পুরোটাই মুহূর্তের উত্তেজনায় হয়েছে।”
মুখ খুলেছেন যশস্বীও। ওই ঘটনা নিয়ে ‘ক্রিকবাজ়’-এর একটি ভিডিয়োতে কথা বলেন ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে। যশস্বী কি সীমা অতিক্রম করেছেন, তাঁর কি গুঁতো মারা উচিত ছিল, এই সব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট হওয়ার পর জবাব দেন যশস্বী। ভিডিয়োর মন্তব্য বাক্সে যশস্বী লেখেন, “না জেনে মন্তব্য করবেন না। ও কী বলেছিল, সেটা যদি না জানেন, তা হলে আপনি বিচার করতে আসবেন না। যদি কেউ সীমা অতিক্রম করে, তা হলে ওদের বুঝিয়ে দিতে হবে যে ভারত লড়াই করবে, জবাব দেবে।” যশস্বীর কথা থেকে স্পষ্ট, তাঁকে কিছু একটা বলেছিলেন ফার্নান্ডো। তার পরেই ওই কাণ্ড ঘটান তিনি। এখন দেখার, এই বিষয়ে ম্যাচ রেফারি কী সিদ্ধান্ত নেন।