এক জন নিয়েছেন ৪ উইকেট। হয়েছেন ম্যাচের সেরা। অপর জন করেছেন শতরান। অধিনায়কের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন। তার পরেও দু’জনেই মজে অন্য এক ক্রিকেটারের ব্যাটিংয়ে। বিরাট কোহলির ইনিংস ভুলতে পারছেন না ম্যাচের সেরা কুলদীপ যাদব ও অধিনায়ক শুভমন গিল।
তিরুঅনন্তপুরমে ১১০ রানের ইনিংস খেলেছেন শুভমন। এক দিনের ক্রিকেটে এটি তাঁর দশম শতরান। অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে ব্যাটিং গড় বেড়েছে। আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলছেন। কিন্তু ম্য়াচ শেষ করে আসতে পারেননি। সেই দুঃখ যাচ্ছে না শুভমনের।
খেলা শেষে শুভমন বলেন, “আমার খেলা শেষ করে আসা উচিত ছিল। ওই সময় আউট হওয়া উচিত হয়নি।” যদিও নিদের ইনিংসে সন্তুষ্ট তিনি। আলজারি জোসেফের বলে কভার ড্রাইভে যে চার মেরেছেন, সেই শটকে সকলের উপরে রেখেছেন ভারত অধিনায়ক।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ৩০০ রানের নীচে আটকে রাখার কৃতিত্ব কুলদীপকে দিয়েছেন শুভমন। ভারতীয় স্পিনারকে দেখে খুশি তিনি। শুভমন বলেন, “কুলদীপ উইকেট নেয়। ওটাই ওর কাজ। এই ম্যাচেও সেটা করেছে। আমরা পিছিয়ে ছিলাম। কুলদীপ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে আমাদের খেলায় ফিরিয়েছে।”
কোহলির সঙ্গে ১৫১ রানের জুটি গড়েছেন শুভমন। কাছ থেকে দেখেছেন, এই বয়সেও কী ভাবে খেলা শেষ করছেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার। এই ধরনের ব্যাটার কবে নিজের কেরিয়ার শেষ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর উপরেই ছেড়েছেন ভারত অধিনায়ক।
শুভমন বলেন, “বিরাট ভাই দুর্দান্ত ব্যাট করেছে। ও খেলা উপভোগ করছে। স্বাধীনতা নিয়ে খেলছে। যখনই ইচ্ছা করেছে বাউন্ডারি মেরেছে। ও ভারতকে কত ম্যাচ জিতিয়েছে। বিরাট ভাই যত দিন চাইবে খেলবে। ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে বলার ধৃষ্টতা আমাদের নেই।”
১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ। শুভমন ও কোহলি শতরান করলেও ম্যাচের সেরা হয়েছেন ভারতীয় স্পিনার। আর তার পরেই অস্বস্তিতে পড়েছেন কুলদীপ। তাঁর মতে, কোহলির পাওয়া উচিত ছিল এই পুরস্কার।
খেলা শেষে কুলদীপ বলেন, “শুভমন ও বিরাট ভাইয়ের ব্যাটিং দেখে খুব মজা পেয়েছি। ওরা দুর্দান্ত খেলেছে। যে ভাবে বিরাট ভাই ব্যাট করেছে তাতে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিতে আমার অস্বস্তি হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
যে উইকেটে বাকি বোলারেরা সমস্যায় পড়েছেন, সেখানে কী ভাবে সফল হলেন কুলদীপ? নিজের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করেছেন তিনি। কুলদীপ বলেন, “আমার ছন্দ ভাল ছিল। মাথা ঠান্ডা রেখে ঠিক জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করছিলাম। বলের গতির তারতম্য করছিলাম। ব্যাটারদের পরিকল্পনা ভাবার চেষ্টা করছিলাম। জানতাম, ওরা বড় শট খেলার চেষ্টা করবে। সেই ফাঁদেই ওদের ফেলেছি।”
বার বার দল থেকে বাদ পড়েন কুলদীপ। কখনও দলে থাকলে প্রথম একাদশে সুযোগ পান না। এই পরিস্থিতিতে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছেন তিনি। বাইরে বসে থাকার সময় তাঁর মানসিকতা কেমন থাকে তা-ও জানিয়েছেন কুলদীপ। তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের বোলিং উপভোগ করা। দলের বাইরে থাকলেও পরিশ্রম করে গিয়েছি। নেটে লম্বা স্পেল করেছি। কখনও কখনও আত্মবিশ্বাসের জন্য উইকেট নেওয়ার দরকার পড়ে। সেটা এই ম্যাচে পেয়েছি।”
তবে এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে বলেই মনে করেন কুলদীপ। তার জন্য পরিশ্রমও করছেন তিনি। ভারতীয় স্পিনার বলেন, “এখনও উন্নতির অনেক জায়গা আছে। একটা ছন্দ ধরে রাখতে হবে। ধারাবাহিক ভাবে ভাল বল করতে হবে। উইকেট নিতে হবে। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও ফরম্যাটেই খেলি না কেন, উইকেট নেওয়াই আমার প্রধান কাজ। সেটারই চেষ্টা করছি।”