আইপিএলের মতো আমেরিকার মেজর লিগ ক্রিকেটেও (এমএলসি) বন্ধ হয়ে যেতে পারে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের খেলা। এর নেপথ্যে অবশ্য কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আচরণে ক্ষুব্ধ এমএলসির দল মালিকেরা।
এমএলসিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের খেলা সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ না হলেও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে। অভিযোগ পাক ক্রিকেটারদের খেলার ছাড়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে দল মালিকদের কাছে বিপুল টাকা দাবি করছেন মহসিন নকভিরা। যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এমএলসির দলগুলির মালিকদের মধ্যে। তাই ভবিষ্যতে পাকিস্তানের আর কোনও ক্রিকেটারকে দলে না নেওয়ার কথাও ভাবছেন তাঁরা।
পাকিস্তানের একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য ক্রিকেটার প্রতি ২৫ হাজার ডলার দাবি করছে নকভির পিসিবি। ভারতীয় মূল্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। যদিও অনাপত্তি পত্রের এই মূল্য সরকারি ভাবে কোথাও প্রকাশ করেনি পিসিবি বা এমএলসির দলগুলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি লিগে খেলতে হলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে তাঁর দেশের ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তি পত্র পেতে হয়। এমএলসিতে খেলার জন্যও পাক ক্রিকেটারদের প্রয়োজন পিসিবির অনুমতি। এমএলসির যে দল যে পাক ক্রিকেটারকে দলে নিয়েছে, সেই দলের কর্তৃপক্ষ সেই ক্রিকেটারের জন্য পিসিবির কাছে অনাপত্তি পত্রের আবেদন করেছে। অভিযোগ, আইসিসির নিয়মকে সামনে রেখে রোজগার করতে চাইছেন নকভিরা।
সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়ে খেলার কথা পাক জোরে বোলার হ্যারিস রউফের। কিন্তু পিসিবির বিপুল আর্থিক দাবি চাপে ফেলে দিয়েছে সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস কর্তৃপক্ষকে। ক্ষুব্ধ এক কর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নকভিরা এক রকম তোলাবাজি করছেন। পিসিবিকে টাকা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে গোটা মরসুমে পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। কারণ জাতীয় স্বার্থ দেখিয়ে যে কোনও সময় ক্রিকেটারদের অনাপত্তি পত্র বাতিল করার বা প্রত্যাহার করার অধিকার রয়েছে পিসিবির। স্বাভাবিক ভাবেই পাক ক্রিকেটারদের খেলানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না দল মালিকেরা।
ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ক্রিকেট লিগে ক্রিকেটার পেতে সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডই অন্য দেশের বোর্ডকে টাকা দেয়। যেমন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএলের বিদেশি ক্রিকেটারদের চুক্তির অঙ্কের ১০ থেকে ২০ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে দেয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডই কমবেশি বিসিসিআইয়ের নীতি অনুসরণ করে। স্বাভাবতই পিসিবির বিপুল চাহিদায় বিস্মিত এমএলসির দল মালিকেরা। তাঁরা ক্ষুব্ধ এবং ভবিষ্যতে পাক ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গঠনের পরিকল্পনা না করার কথা ভাবতে শুরু করেছেন।