পাকিস্তানের ক্রিকেট আছে একই জায়গায়। সিরিজ়ের মাঝপথে দলের খোলনলচে বদলেও কোনও লাভ হল না। এজবাস্টনে বুধবার পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় আরও বড় চেহারা নিল।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় তথা শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে গেল ১৩৩ রানে। এর ফলে একটি লজ্জাজনক পরিসংখ্যানের সামনে রয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেট। চলতি তিন টেস্টের সিরিজে বাবর আজমের দল এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট ৭২২ রান করেছে। গত ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্টের সিরিজ়ে ভারতের শুভমন গিল একাই ৭৫৪ রান করেছিলেন। পাকিস্তানের হাতে আর একটি ইনিংস রয়েছে।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর গত এক সপ্তাহে পাকিস্তান ক্রিকেটে নাটকীয় ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে সাত জন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে বরখাস্ত করে টেস্ট দলে বড় বদল আনা হয়। এত কিছুর পর এক ঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে দল সাজালেও পাক ক্রিকেটের ছবিটা বদলায়নি।
প্রথম দু’টি টেস্ট হেরে সিরিজ়ে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় এজবাস্টনে চারটি বদল করেছিল। কিন্তু টসে জিতে ইংল্যান্ড বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরই পাকিস্তানের পুরোনো ব্যাটিং দুর্বলতা আবারও ফুটে ওঠে। মাত্র তিন জন ব্যাটার দু’অঙ্কের রান করেন। জশ টং ৪টি এবং ওলি রবিনসন ও জফ্রা আর্চার ৩টি করে উইকেট নেন।
দলে ফেরা সাইম আইয়ুব রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। এটি টেস্টে রবিনসন ১০০তম উইকেট। পাকিস্তানের সমস্যা বাড়ে যখন আর্চারের বলে আজান আওয়াইসের ব্যাটের উপরের কানায় লেগে ক্যাচ ওঠে এবং মিড-অনে নিচু হয়ে সেই ক্যাচ ধরেন টং। আব্দুল্লাহ শফিকও দ্রুত আউট হন। রবিনসনের বলে থার্ড স্লিপে ড্যান লরেন্স তাঁর ক্যাচ নেন। এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ আর্চারের বলে ক্রস ব্যাটে শট খেলতে গিয়ে মিড-উইকেটে ক্যাচ তুলে আউট হন।
এরপর অধিনায়ক বাবর আজমকে বোল্ড করে পাকিস্তানের দুর্ভোগ আরও বাড়ান টং। বলের উচ্চতা বুঝতে না পেরে আউট হন বাবর। টং এরপর অভিষেক হওয়া গাজী ঘোরি ও ইমরান রানধাওয়াক পর পর ফিরিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই পাকিস্তানের ৭ উইকেট ফেলে দেন।
পাকিস্তানের এই বিপর্যয়ের মধ্যে ভাল খেলেন একমাত্র সৌদ শাকিল। যিনি ৪৩ রান করেন। লর্ডসেও পাকিস্তানের হয়ে একাই লড়ে ৯৭ রান করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
ম্যাচ শুরুর আগে বাবর দাবি করেছিলেন যে, মাঠের বাইরের সব বিতর্ক ভুলে তাঁরা খেলায় মন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘দেখুন, বাইরের আলোচনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা শুধু এই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করছি এবং নিজেদের দলের ওপর নজর দিচ্ছি।’’ কিন্তু এজবাস্টনের প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মাঠের বাইরের এই আমূল পরিবর্তন মাঠের ভিতরে পাকিস্তানের সমস্যাগুলোর কোনও সমাধান করতে পারেনি।