গত আইপিএলে লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ১০ দলের প্রতিযোগিতায় ন’নম্বরে শেষ করেছিল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নেরা। স্বাভাবিক ভাবেই কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে এবং অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্যকে নিয়ে অসন্তুষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরই হার্দিককে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মুম্বইয়ের কর্তারা। ব্যর্থ কোচকে কি ধরে রাখবে মুম্বই?
২০২৫ সালের আইপিএলের আগে জয়বর্ধনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল মুম্বইয়ের। মূল চুক্তি হয় দু’বছরের জন্য। পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হলে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধির সুযোগ রাখা ছিল। কিন্তু গত মরসুমে হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর জয়বর্ধনের চাকরি থাকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। মুম্বই কর্তৃপক্ষ কি নতুন কোচ নিয়োগ করবেন ২০২৭-এর আইপিএলের জন্য? একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তেমন সম্ভাবনা নেই। জয়বর্ধনেই দায়িত্বে থাকবেন। দু’পক্ষের কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়কের নাম কোচ হিসাবে ঘোষণা করতে পারেন মুম্বই কর্তৃপক্ষ।
গত মরসুমে দলের পারফরম্যান্স ভাল না হলেও ২০২৫ সালে মুম্বই আইপিএলের প্লেঅফে উঠেছিল। চার নম্বরে শেষ করেছিল জয়বর্ধনের দল। তাই তাঁকেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুম্বই। কোচ এবং অধিনায়ক একসঙ্গে পরিবর্তনে সায় নেই মুম্বইয়ের অধিকাংশ কর্তার। তাই মূল চুক্তি অনুযায়ী জয়বর্ধনেকে আরও এক বছর রেখে দেওয়া হবে।
হার্দিককে মুম্বই রাখতে না চাইলেও আইপিএলের একাধিক দল আগ্রহী। হার্দিককে নিয়ে মুম্বইয়ের পক্ষে দর কষাকষির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন জয়বর্ধনে। যেমন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে দর কষাকষির সময় হার্দিকের পরিবর্তে ক্যামেরন গ্রিনকে চেয়েছিলেন কর্তাদের একাংশ। কিন্তু রাজি হননি জয়বর্ধনে। কারণ আগামী এক বছর অস্ট্রেলিয়ার প্রচুর টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। গ্রিনের উপর যথেষ্ট ধকল পড়বে। আইপিএলে তাঁকে সেরা ফর্মে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। জয়বর্ধনের যুক্তি মেনে পিছিয়ে গিয়েছেন মুম্বই কর্তৃপক্ষ। চেন্নাই সুপার কিংসও হার্দিককে পেতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রেও মুম্বইয়ের অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন জয়বর্ধনে। তবে চেন্নাইয়ের সঙ্গে আলোচনা থমকে রয়েছে। নতুন কোচ চূড়ান্ত না করে আর কথা বলতে চাইছেন না চেন্নাইয়ের কর্তারা।
আরও পড়ুন:
হার্দিককে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জয়বর্ধনেকে দিয়েছেন মুম্বইয়ের কর্তারা। আইপিএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে রাজি নন জয়বর্ধনে। তিনি চাইলে হার্দিকেও রেখে দিতে পারে মুম্বই। অর্থাৎ হার্দিকের জন্যই বেঁচে যাচ্ছে জয়বর্ধনের চাকরি। আবার কোচ চাইলে মুম্বইয়েই থাকবেন বডোদরার অলরাউন্ডার।