ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য নতুন পুরস্কার। পুরোটাই ভিভিএস লক্ষ্মণের উদ্যোগে। দলের সংস্কৃতি এবং স্পিরিট উন্নত করার লক্ষ্যেই এই পুরস্কার চালু করেছেন তিনি।
ভারতীয় দল এখন জ়িম্বাবোয়ে সফরে। সেখানে অন্তর্বর্তিকালীন প্রধান কোচ হিসেবে গিয়েছেন লক্ষ্মণ। তিনি ভারতীয় দলের সাজঘরে ‘বেস্ট অ্যাটিটিউড অ্যাওয়ার্ড’ (সেরা আচরণের পুরস্কার) চালু করেছেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত টানা সাতটি ম্যাচে জিততে না পারার পর গত বৃহস্পতিবার প্রথম জয় পেয়েছে। ঠিক তারপরেই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন লক্ষ্মণ।
কে কত রান করলেন বা ক’টি উইকেট নিলেন, তার উপর এই পুরস্কার নির্ভর করছে না। প্রচেষ্টা, মানসিকতা এবং শৃঙ্খলাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচের পর এই পুরস্কার জিতে নেন তিলক বর্মা। ওই ম্যাচে তিলক একটি ক্যাচ নিয়েছেন, একটি চার মেরেছেন এবং দলের জয়সূচক রান তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে। একেবারেই সাধারণ পারফরম্যান্স। কিন্তু লক্ষ্মণ এমন ভাবে এই পুরস্কারটির পরিকল্পনা করেছেন, যাতে সাধারণ স্কোরকার্ডে ধরা না পড়া সূক্ষ্ম বিষয়গুলিকেও তুলে ধরা যায়।
পুরস্কারটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লক্ষ্মণ বলেন, খেলায় নিখুঁত কৌশলের যেমন প্রয়োজন হয়, তেমনিই ক্রিকেটারদের চরিত্রের গুরুত্বও সমান। লক্ষ্মণ বলেন, ‘‘একজনের মনোভাব বা ইতিবাচক মানসিকতা তার দক্ষতারই সমতুল্য। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই সিরিজ়ের তিনটে ম্যাচে শুধু ফিল্ডিং, বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। বরং ইতিবাচক মানসিকতাকেই আমরা পুরস্কৃত করছি।’’
কে এই পুরস্কার পাবেন, তা বাছার দায়িত্ব লক্ষ্মণ দিয়েছেন সাপোর্ট স্টাফদের উপর। এ বার ভার পড়েছে স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হর্ষ এবং পারফরম্যান্স কোচ জয়ের উপর।
অনুশীলনে তিলকের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করে হর্ষ বলেন, ‘‘এই একজন ক্রিকেটার শুধু মাঠের বাইরেই নিজেকে প্রস্তুত করেনি, মাঠের ভিতরেও সেরাটা দিয়েছে। সেই সময়ে এতটাই ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এবং মনোযোগ দিয়ে নিজের কাজ করেছে, যখন হয়তো অতটার প্রয়োজনই ছিল না।’’
গোটা দলের সামনে তিলকের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়। তিলক বলেন, ‘‘আমি সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। মাঠের বাইরে আমি যা কিছু করি, তা আমাকে মাঠের ভিতরের পারফরম্যান্সে সাহায্য করে।’’