ভারতের বিরুদ্ধে সাদা বলের জোড়া সিরিজ়ে দলের পারফরম্যান্সে খুশি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কোচ ড্যারেন সামি। এক দিনের সিরিজ় ১-২ ব্যবধানে হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ় ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছেন শাই হোপেরা। তাঁর আশা, টানা দু’বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ীদের বিরুদ্ধে এই সাফল্য ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের আর্থিক দুর্দশা মেটাবে।
সামির কাছে ভারতের মাটিতে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে এই সাফল্যের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। এই সাফল্য আকৃষ্ট করতে পারে বিনিয়োগকারীদের। মিটতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটে আর্থিক টানাটানির সমস্যা। বৃষ্টিতে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর আশাবাদী সামি বলেছেন, ‘‘আমার মা সব সময় বলতেন, তোমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে। জীবনে যাই করবে, যত্নশীল মনোভাব নিয়ে করবে। আমার মনে হয়, আমরা এখন এমন একটা জায়গায় রয়েছি, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করার জন্য কাউকে প্রয়োজন। ভারতের মতো বিশ্বসেরা দলের বিরুদ্ধে এই ধরনের সিরিজ় সেই সম্ভাবনা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরও আলোচনার মধ্যে নিয়ে আসে।’’ ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটীয় পরিস্থিতির পার্থক্যের কথাও বলেছেন ক্যারিবিয়ান কোচ। তিনি বলেছেন, ‘‘ভারত যত বার বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা খেলবে, তত বারই জেতার আশা নিয়ে মাঠে নামবে। কারণ ভারতের যথাযথ পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা অন্যরকম। আমাদের অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে ভাল পারফর্ম করতে হয়। এক দিকে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়। উপযুক্ত পদক্ষেপগুলো করা হয়। অন্য দিকে, আমাদের সামনে নানা প্রতিকূলতা। নানা বাধা। তা-ও আমরা নিজেদের কাজটা করে যাচ্ছি। আশা করি এই সিরিজ়ের সুফল আমরা পাব।’’
সামির আশা, ভারতের বিরুদ্ধে এই সাফল্যে তাঁরা আর্থিক ভাবে উপকৃত হতে পারেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রাক্তন অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘এই সিরিজ়ের ফল আমাদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ এবং স্পনসরদের সঙ্গে আলোচনাগুলো অনেক ইতিবাচক হবে। বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। তাতে আমরা আর্থিক ভাবে একটু হলেও ভাল জায়গায় পৌঁছোব।’’
সমস্যাটা ঠিক কোথায়? সামি বলেছেন, ‘‘দেখুন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে খেলার জন্য কী কী প্রয়োজন। কী কী প্রতিকূলতা আমাদের সামনে রয়েছে। তা-ও দীর্ঘ দিন ধরে ভাল খেলা একটা দলের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে— এটা দুর্দান্ত। আমাদের সাজঘরের সকলে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিল। সেই মতো খেলেছে। আমার যেটা সবচেয়ে ভাল লেগেছে, সেটা হল পরিচিত সেই দাপট এবং আত্মবিশ্বাস এই সিরিজ়ে আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে দেখা গিয়েছে। এ বারের প্রস্তুতি পর্ব থেকেই ক্রিকেটারদের খুব চনমনে মনে হয়েছিল আমার। ওরা ক্রিকেট উপভোগ করছে। জেতার কথা ভাবছে। এ ভাবেই শুরু হয়। এখনও আমরা সেই জায়গাতেই রয়েছি, যেখানে ছিলাম। আমাদের বিশ্বাস করা উচিত, আত্মবিশ্বাসী থাকা উচিত যে আমরাও সেরা পারফরম্যান্স করতে পারি। আমাদেরও যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে।’’
কোচ হিসেবে দলের মধ্যে এই পরিবর্তনটা কী ভাবে করলেন? সামি বলেছেন, ‘‘কোচ হিসেবে আমার কোচ হল, দলের মধ্যে পরিবেশ তৈরি করা। জেতার মনোভাব তৈরি করা। ক্রিকেটারদের উপর বিশ্বাস রাখা। কখনও কখনও আপনি দু’পা এগোবেন। আবার ক্রিকেটের চরিত্রগত কারণে কখনও মনে হতে পারে, তিন-চার পা পিছিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কাজ করে যেতে হয়। লক্ষ্যের দিকে অবিরাম এগিয়ে চলাই আমার মন্ত্র। জানি, চারপাশে অনেকে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু আমি কানে একটু কম শুনি। তাই বেশির ভাগই আমার কানে ঢোকে না। আমি এ ভাবেই কাজ করতে অভ্যস্ত।’’
আরও পড়ুন:
ভারতের বিরুদ্ধে এই সাফল্যের জন্য আলাদা করে কাউকে কৃতিত্ব দিতে চাননি সামি। দলগত পারফরম্যান্সের কথা বলেছেন। তবু টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের ক্ষেত্রে দুই স্পিনার রোস্টন চেজ এবং গুডাকেশ মোতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘পিচ ব্যাটিং সহায়ক ছিল। তবু ওরা ভাল বল করেছে। খুব বেশি বাউন্ডারি ওদের বলে হয়নি। ওদের অনেক বলেই রান হয়নি। এই কৃতিত্বটা ওদের।’’
আপাতত নিজে কয়েক দিন বিশ্রাম নিতে চান সামি। ক্রিকেটারদেরও বিশ্রাম দিতে চান। তার পর প্রস্তুতি শিরি করবেন। ভারতের বিরুদ্ধে যেখানে শেষ করেছেন, আবার সেখান থেকেই শুরু করতে চান।