ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে সংঘাত তৈরি হয়েছিল স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, বিরতির পর দল না নামানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল পিসিবি। অনড় ছিলেন স্কাই স্পোর্টস কর্তৃপক্ষও। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মধ্যস্থতায় বাবর আজ়মেরাও মাঠে নেমেছিলেন আবার সুলেমান খান এবং কাশেম খানের সাক্ষাৎকারও সম্প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু দেশের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের ছেলেদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের বিরোধিতায় কেন সরব হলেন মহসিন নকভিরা?
পিসিবি সূত্রে খবর, ইমরানের ছেলেদের একটি মন্তব্যেই রেগে যান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী নকভি। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইক আথারটনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলেমান এবং কাসেম তিন বছর ধরে জেলবন্দি ইমরানের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বাবার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। অভিযোগ করেন, জেলে ইমরানের ঠিক মতো চিকিৎসা হচ্ছে না। কাসেম জানান, প্রাক্তন অলরাউন্ডার একটি চোখে প্রায় দেখতেই পান না। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কোনও নীতি নেই। বাবার সঙ্গে কী করা হচ্ছে, আমরা ঠিক বলতে পারব না। কোনও কিছুই স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ্ব নয়। ওরা সম্ভবত ইমরান খানকে নির্লজ্জভাবে মেরে ফেলতে চায়। মুখ বন্ধ করিয়ে রাখার জন্য জেলের মধ্যে আটকে রাখতে চায়। দিনে ২৩ ঘণ্টার বেশি সময় একটা ছোট ঘরে বন্দি রাখা হয়। পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।’’
এই মন্তব্যেই চটেছেন নকভি। ইমরান পাকিস্তানের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক ছাড়াও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে জেলবন্দি করে রেখেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। ক্রিকেট বিশ্বে এখনও ইমরান যথেষ্ট জনপ্রিয়। সুনীল গাওস্কর, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালান বর্ডার, ওয়াসিম আক্রমের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারাও উদ্বিগ্ন। পাকিস্তান সরকারকে ইমরানের জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে একাধিক বার অনুরোধ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনার পর মুখ খুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আশা করব ইমরান খানের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করা হবে। তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে।’’ বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যেই কামিন্সই প্রথম সরাসরি ইমরানের সমর্থনে মুখ খুললেন।
আরও পড়ুন:
ইমরানের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। স্বাভাবিক ভাবেই পাকিস্তান সরকার চায় না, ইমরানের আসল পরিস্থিতির কথা সকলে জানুক। সব কিছু প্রকাশ্যে আসুক। তাতে পাকিস্তান সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। এখনকার পাক সরকার ইমরানের দলকে নির্বাচনেও লড়তে দেয়নি। মনে করা হচ্ছে, অস্বস্তি এড়াতেই সুলেমান এবং কাশেমের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার বন্ধ করতে উদ্যোগী হন পিসিবি চেয়ারম্যান। ক্ষমতাহীন, বন্দি, অসুস্থ প্রাক্তন অধিনায়ককে ভয় পাচ্ছে পাক বোর্ড!