সমস্বরে মন্ত্র আওড়াচ্ছেন পুরোহিতেরা। হাত জড়ো করে বসে রয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ ক্যামেরাবন্দি করছেন পুজোর ভিডিয়ো! আর সেই পুজো হচ্ছে চলন্ত ট্রেনের কামরার ভিতরে! উত্তর রেলের একটি ট্রেনের ভিতরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। ভিডিয়ো দেখে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ট্রেনের কামরার মেঝেয় বসে এক জন প্রধান পুরোহিত পুজার্চনা করছেন। মন্ত্রপাঠ করছেন আরও বেশ কয়েক জন পুরোহিত। পুজোয় বেশ কয়েক জন ভক্তকেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই সাদা পোশাক পরে ছিলেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। হইচই ফেলেছে সমাজমাধ্যমে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ভিঝপুনীত’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। ওই ঘটনার সমালোচনা করে সরব হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। ভিডিয়োটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর রেল তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি কোনও সাধারণ যাত্রী-কামরায় নয়, বরং ব্যক্তিগত ভাবে বুক করা একটি ‘স্যালুন কার’-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তর রেল জানিয়েছে, আইআরসিটিসি-র মাধ্যমে একটি বেসরকারি পক্ষ বুক করেছিল ট্রেনের ওই কামরা। স্যালুন কার হল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ভিআইপিদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত একটি ব্যক্তিগত এবং বিলাসবহুল কামরা। ওই কামরায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শোয়ার ঘর, ছোট রান্নাঘর (প্যান্ট্রি), বসার এবং খাওয়ার ঘর, সংলগ্ন শৌচাগার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকে।
আরও পড়ুন:
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, স্যালুন কারটি ৮ জুলাই আইআরসিটিসি-র মাধ্যমে বুক করা হয়েছিল। ৩,০৮,৫৮০ টাকা দিয়ে বুকিং করা হয় কামরাটি। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, ১০ জুলাই নয়াদিল্লি থেকে মুম্বই পর্যন্ত একমুখী যাত্রার জন্য ১২৯২৬ পশ্চিম এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে স্যালুন কারটি যুক্ত করার কথা ছিল।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ফুল, বেলুন, মোমবাতি, গোলাপের পাপড়ি এবং ‘আই লাভ ইউ’ বার্তা দিয়ে নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেণির কামরা হানিমুন স্যুটের মতো করে সাজিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন কয়েক জন যাত্রী। রেলের কামরাকে শোয়ার ঘরে রূপান্তরিত করার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয় রেল। রেল কর্তৃপক্ষ জানান, এক বেসরকারি সাজসজ্জাকারী তাঁদের অনুমোদন না নিয়েই এই কাজ করেছেন। রেল এটিকে ‘গুরুতর ত্রুটি’ বলে উল্লেখ করে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটিকে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং সজ্জাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। যদিও সেই ভিডিয়োটিরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।