আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে গত বছরের সঙ্গে এ বছর সমানে পাল্লা দিচ্ছিল ডেঙ্গি। অগস্টের প্রথম সপ্তাহে এক লাফে গত বছরের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। এ দিকে, বর্ধমান ও কালনা পুরসভা প্রকৃত ডেঙ্গি-আক্রান্তের সংখ্যা গোপন করছে দাবি করে জেলা জনস্বাস্থ্য স্থায়ী সমিতির বৈঠকে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন আধিকারিকেরা। ওই দু’টি পুরসভার সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্য দফতর আলাদা করে কথা বলবে বলে বৈঠকে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সিএমওএইচ (২) সুনেত্রা মজুমদার।
স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট বলছে, গত বছরের জুনে জেলায় ১১ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল। এ বছরের জুনে ১২ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের জুলাইয়ে ৬৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ বছর হয়েছেন ৭০ জন। গত বছরের অগস্টের প্রথম সপ্তাহে ১৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের হদিস মিলেছিল জেলায়। এ বছরের অগস্টের প্রথম সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭। সব মিলিয়ে জেলায় ১৪৩ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন এখনও পর্যন্ত। গত বছর এই সময়ে সেই সংখ্যা ছিল ১৪৪।
ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার কারণ কী?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত সপ্তাহে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি চলায় বংশ বিস্তারের আদর্শ পরিবেশ পায় মশা। ফলে বেড়েছে ডেঙ্গি বাহক মশার উপদ্রব। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানান, ডেঙ্গির ক্ষেত্রে বছরের ৩০-৪২ সপ্তাহ (অগস্ট থেকে অক্টোবর) পর্যন্ত সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন ৩২তম সপ্তাহ চলছে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘গত বছর গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি ছিল। এ বারও একই প্রবণতা দেখা দিয়েছে।” পঞ্চায়েত আধিকারিকদের দাবি, ১২৫ দিনের কাজ চালু হলেও ওই প্রকল্পে নিকাশি বা সাফাইয়ের কাজের সুযোগ কম। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় নিকাশি এবং সাফাইয়ে প্রভাব পড়ছে।
জেলায় ৩১তম সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্ত ১৪৩ জনের মধ্যে পূর্বস্থলী ১ ব্লকেরই ৫৫ জন। তার পরেই রয়েছে ভাতার (২৮)। পূর্বস্থলী ২ ও মঙ্গলকোট ব্লকের প্রতিটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০। ছ’টি পুরসভার মধ্যে শুধু বর্ধমানেই মাত্র দু’জন ডেঙ্গি রোগীর সন্ধান মিলেছে। জেলা পরিষদের কর্তারা জনস্বাস্থ্য কমিটির বৈঠকে এই তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের কাছে ক্ষোভের সুরে তাঁরা জানান, ডেঙ্গি-প্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত বর্ধমান শহর। অথচ পুরসভা ডেঙ্গি-আক্রান্তের প্রকৃত তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে তুলছে না। শহরে কেউ আক্রান্ত হলে আধার বা ভোটার কার্ডের ঠিকানা দেখিয়ে তাঁদের গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তের পরিবার বর্ধমান শহরে ভাড়া থাকে। জনস্বাস্থ্য কমিটির এক সদস্য বলেন, “পূর্বস্থলী ২ ব্লকে ৫৫ জন আক্রান্ত হলেন, অথচ পাশেই কালনা শহরে সেই সংখ্যা শূন্য! এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?” দুই পুরসভার দাবি, জানুয়ারি থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করছেন। রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন। জল জমে থাকলে বার করার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সেই কারণেই ডেঙ্গির প্রকোপ কম।
ডেঙ্গি-চিত্র
৩১তম সপ্তাহে আক্রান্ত
২০২৩: ১২৬,
২০২৪: ১৫৪,
২০২৫: ১৪৪,
২০২৬: ১৪৩
২১৫টি পঞ্চায়েত, ছ’টি পুরসভায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা হচ্ছে। নষ্ট করা হচ্ছে মশার লার্ভা।
পূর্বস্থলী ১ ও কাটোয়া ১ ব্লকে সমীক্ষার কাজ ভাল হচ্ছে। মঙ্গলকোট, খণ্ডঘোষে উন্নতি প্রয়োজন।
১৫ দিন অন্তর মশাবাহিত-রোগ নিয়ন্ত্রণে কী কাজ হচ্ছে, কোথায় ঘাটতি থাকছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
৩৩০০টি জলাশয়ে ১০ লক্ষ গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকায় প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হয়েছে।
জলমগ্ন এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্কুল, কলেজ, সরকারি কার্যালয়, আইসিডিএস, ধর্মীয় স্থান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নির্মাণস্থল, ডাম্পিং গ্রাউন্ড, পরিত্যক্ত জায়গায় নজর রাখা হচ্ছে। সূত্র স্বাস্থ্য দফতর