একসময় ছিল তৃণমূল নেতার পার্টি অফিস। এ বার সেখানেই বসবেন দেশের সীমান্তরক্ষায় দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীরা। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত পার্টি অফিসকেই আপাতত অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘উদ্যোগে’ বিধায়ক মানব গুহ।
মেমারি বিধানসভা এলাকায় নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের সক্রিয় ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান বিধায়ক। সেই পরিকল্পনায় রয়েছে নিজের বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ করবেন প্রাক্তন সেনাকর্মীরা। মানবের যুক্তি, সেনায় অভিজ্ঞতা এবং শৃঙ্খলাবোধকে সঞ্চারিত করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, মেমারি শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাগরিক সচেতনতার অভাব ‘স্পষ্ট’। যেখানে-সেখানে টোটো দাঁড় করিয়ে রাখা, দোকানের সামনের রাস্তা দখল করে রাখা কিংবা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বেআইনি চোলাই মদের ঠেক, গাঁজার আসর এবং জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধেও আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি। মানব বলছেন, পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর অভাবে যে কোনও ঘটনায় নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আর বিধায়কের মূল কাজ তো এলাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে ভাবা এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন করা। কিন্তু নাগরিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রেও তাঁকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। সেই কারণেই অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে কয়েকজন প্রাক্তন সেনাকর্মী কাজে নেমে পড়েছেন বলেও দাবি বিধায়কের।
ওই গোটা কাজ পরিচালনার জন্য আপাতত একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু কেন তৃণমূল নেতার কার্যালয় ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ল? বিধায়কের দাবি, মেমারি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সরকারি জায়গায় অফিস বানিয়ে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করতেন। তাই ওই অফিসটিকে আপাতত সামাজিক কল্যাণের কাজে লাগানো হবে। ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের জন্য পৃথক স্থায়ী কার্যালয় তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। প্রয়োজনে কমিউনিটি হল ভাড়া নিয়ে সংগঠনের কাজ চালানোর পাশাপাশি সংগঠনের আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
তা ছাড়়া মেমারি থানার সামনে থাকা আরও একটি সরকারি জায়গায় অবস্থিত অফিসকে দাবা খেলার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন বিধায়ক। সেখানে স্থানীয় পড়ুয়া, শিক্ষক এবং দাবাপ্রেমীরা দাবা শিখতে ও অনুশীলন করতে পারবেন। অন্য দিকে, তাদের পুরনো কার্যালয় দখলের অভিযোগ করেছে মমতাপন্থী তৃণমূল। মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর মন্তব্য, ‘‘এলাকার বাসিন্দারা সব দেখছেন। সুযোগ পেলে তাঁরাই জবাব দেবেন।’’