নদীর পারেই বাস। তাই দুঃখ বারোমাস। বর্ষা এলে মঙ্গলকোটের আতকুলা গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের অবস্থা বর্ণনা করেই এই ছন্দে।
গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজয়। ফি বর্ষায় নদের জল বাড়লেই প্লাবিত হয় গ্রাম। ভোগান্তিতে পড়েন গ্রামবাসী। ঘরের দখল নেয় বিষধর সাপ। ছোবল থেকে বাঁচতে উঠোনে বাঁশের মাচায় রাত কাটে তাঁদের। গোটা বর্ষা তাঁরা কাটান মাচায়। সেখানেই রান্নাবান্না হয়, সেখানেই খাওয়াদাওয়া।
বর্ষা এলেই আতঙ্কের প্রহর গোনে মঙ্গলকোটের আতকুলা গ্রাম। অজয় ঘেরা ছোট্ট গ্রামে বাঁধের অবস্থা বেহাল। বর্ষা এলেই গ্রামের দিকে ধেয়ে আসে অজয়। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বাঁধের বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। মাটির বাঁধ আর নদীর পাড় মিলেমিশে একাকার। অজয়ের জল বাড়লেই গ্রাম চলে যায় জলের তলায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বাঁধের সংস্কার না হওয়ায় খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁদের।কোথাও বাঁধের গায়ের মাটি ধসে গিয়েছে। কোথাও বাঁধ সরু ও নিচু।
মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রামে ১৭০-১৮০টি পরিবারের বাস। গ্রামে ভোটার রয়েছেন ৪৮৮ জন। গ্রামবাসী জানান, ২০০০-র বন্যায় ভেসে গিয়েছিল গোটা গ্রাম। ২০২১-র বন্যাতেও গ্রাম জলমগ্ন হয়েছিল। তাঁদের আশঙ্কা, এ বার বর্যায় গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। ২০০০-র আগে এক বার বাঁধের সংস্কার হয়েছিল। তার পরে আর হয়নি। আতকুলা গ্রামের প্রামাণিক পাড়া থেকে কোটাল পাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিমি বাঁধ এক কথায় বেহাল, দাবি বাসিন্দাদের। গ্রামের বাসিন্দা অজয় ঘোষ, দিলীপ পাল বলেন, ‘‘গ্রামকে অজয় গিলে খাচ্ছে। বর্ষা এলেই আমাদের রাত জাগতে হয়। গ্রাম ডুবে যায়। আমরা চাই দ্রুত বোল্ডার দিয়ে বাঁধ বাঁধানো হোক। না হলে গ্রাম বাঁচানো যাবে না। কয়েক বছর আগে বাঁধের মেরামতি হবে বলে যন্ত্র আনা হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। পরে সেই যন্ত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’’ গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী মাঝি, মৃণালকান্তি ঘোষ বলেন, ‘‘জল গ্রামে ঢুকলেই আমাদের বাঁশের বড় মাচা করে সেখানে আশ্রয় নিতে হয়। এখন প্রতিটি বাড়ির উঠোনে সেই মাচা বাঁধা হচ্ছে। বহু বার প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয়নি। শুধু তাই নয়, গ্রামের বেশ কিছু জায়গায় রাস্তাও বেহাল। নতুন সরকার বাঁধ সংস্কার করলে তবেই গ্রাম বাঁচবে।’’
বাঁধের বেশ কিছু জায়গা যাতায়াতের জন্য কাটা হয়েছে। যার ফলে বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে গিয়েছে। কিছু জায়গায় বাঁধে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এই গ্রাম ছুঁয়ে বাঁক নিয়েছে অজয়। ধরে জল বাড়লে বাঁধের গায়ে ধাক্কা বেশি লাগে। দু’বছর আগে প্লাবিত হওয়ায় গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙেছিল। এক জনের বাড়ি অজয়ে তলিয়ে গিয়েছে।’’ গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের আক্ষেপ, ‘‘শুধু পরিদর্শনই হয়। কাজের কাজ কিছু হয় না। গ্রামে ঢোকার মুখে প্রায় দেড় কিলোমিটার চাষের জমি রয়েছে। সেখান দিয়ে জল ঢোকে গ্রামে। অন্য দিকে রয়েছে অজয়। বর্ষায় দু'দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণে প্লাবিত হয় গ্রাম।
মঙ্গলকোটের বিজেপি বিধায়ক শিশির ঘোষ বলেন, ‘‘আগের সরকার কোনও কাজই করেনি। আমাদের সরকার কাজ করবে। বিষয়টি বিধানসভায় তুলব।’’