এটিএম থেকে টাকা তুলে বেরিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। বাইরে আসতেই তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল এক যুবক। টাকা নিয়ে বেরিয়ে আসা ব্যক্তিকে সে জানাল, তার এটিএম থেকে টাকা তোলার সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। এ দিকে, তার জরুরি ভিত্তিতে টাকার দরকার। ওই ব্যক্তি নগদ টাকা তাকে দিলে সে অনলাইনে সেই টাকা মিটিয়ে দেবে।
ওই যুবকের কথায় বিশ্বাস করে টাকা নিয়ে বেরিয়ে আসা ব্যক্তি তাকে নগদ টাকা দিয়ে দেওয়ার কিছু ক্ষণ পরে নিজের মোবাইলে একটি মেসেজ পেলেন। অভিযোগ, মেসেজটি ভুয়ো। তা ওই ব্যক্তি যাচাই করে বুঝে ওঠার আগেই যুবকটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই কায়দায় সম্প্রতি তিলজলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। যার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার তিলজলা থানার পুলিশ দু’জনকে হাওড়া থেকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম মহম্মদ নুরেন এবং ফৈজান খান। ধৃতদের শুক্রবার আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতেরা একটি এটিএম প্রতারণা-চক্রের সঙ্গে জড়িত। যারা তিলজলা থানা এলাকার কুষ্টিয়া এবং সি এন রায় রোডে গত কয়েক সপ্তাহে দু’টি এটিএম প্রতারণা ঘটিয়েছে। এ ছাড়া, অভিযুক্তেরা শহরের আরও কয়েকটি এটিএম প্রতারণায় জড়িত বলেও অভিযোগ। ধৃত নুরেন এবং ফৈজানকে জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের দাবি, ধৃতেরা টাকা পাওয়ার পরে তাদের মোবাইলে থাকা ভুয়ো মেসেজ দেখাত নিশানায় থাকা ব্যক্তিদের। সেই সঙ্গে বলত, সেই মেসেজই কিছু পরে ওই ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছবে। তাঁরা যেন তা দেখে নেন। আর ওই মেসেজ পরীক্ষা করে বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তেরা মোটরবাইকে উঠে পালিয়ে যেত। পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।