Advertisement
E-Paper

রেশন দোকানে চাল-গম রয়েছে, নেই শুধু সার্ভার! খালি হাতে ফিরছেন গ্রাহকেরা, সমস্যা মিটবে বলে আশ্বাস খাদ্যমন্ত্রীর

কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’। যদিও দ্রুত সমস্যা মিটে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ২১:২৫
‘স্মার্ট পিডিএস’ ব্যবস্থা দ্রুত সমস্যা স্বাভাবিক করতে আশ্বাস অশোক কীর্তনিয়া।

‘স্মার্ট পিডিএস’ ব্যবস্থা দ্রুত সমস্যা স্বাভাবিক করতে আশ্বাস অশোক কীর্তনিয়া। ফাইল চিত্র

কেন্দ্রের নির্দেশে চালু হওয়া নতুন অনলাইন ব্যবস্থার জেরে রাজ্যে গণবণ্টন ব্যবস্থা সঙ্কটের মুখে পড়েছে। গত অগস্ট মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গে ‘স্মার্ট পিডিএস’ ব্যবস্থা চালু হলেও চলতি মাসের শুরু থেকেই তীব্র সার্ভার বিপর্যয়ের কারণে রাজ্যের হাজার হাজার রেশন দোকানে খাদ্যশস্য বণ্টন কার্যত থমকে গিয়েছে। দোকানগুলিতে পর্যাপ্ত চাল, গম ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী মজুত থাকা সত্ত্বেও ই-পস যন্ত্র অচল হয়ে পড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই অচলাবস্থার জেরে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে রেশন ডিলার ও দোকানের কর্মীদের। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’। যদিও দ্রুত সমস্যা মিটে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।

অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে রেশন ডিলারদের যেন কোনও ভাবেই ভুল না বোঝেন গ্রাহকেরা। নতুন ব্যবস্থায় নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের বায়োমেট্রিক অর্থাৎ আঙুলের ছাপ না মিললে, চোখের মণি স্ক্যান না হলে কিংবা নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে ওটিপি না এলে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কোনও উপায় নেই ডিলারদের। কেন্দ্রীয় সার্ভার অচল হয়ে পড়ায় গোটা পরিষেবাই ব্যাহত হচ্ছে। দোকানে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকা সত্ত্বেও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সমস্যায় একটি ডিজিটাল মেমো তৈরি করতেই ১০ থেকে ১৫ মিনিট, এমনকি তারও বেশি সময় লাগছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় মেমো তৈরি করাই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাসের প্রথম দিন থেকেই রেশন দোকানে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় তাঁদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে রেশন ডিলারদের উপর। প্রতিনিয়ত কটূক্তি, দুর্ব্যবহার এবং নানা ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে ডিলার ও দোকানের কর্মীদের।

রেশন ডিলারদের অভিযোগ, পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রাজ্যের খাদ্য দফতরের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শীর্ষ কর্তা অংশুল গুপ্ত, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়েন্ট ডিরেক্টর সুময় গোস্বামী এবং ডিডিপিএস অধিকর্তা-সহ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের বার বার হোয়াট্‌সঅ্যাপ ও ফোনের মাধ্যমে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকারি স্তরে একাধিক বার অভিযোগ জানিয়েও সার্ভার সমস্যার কোনও সমাধান মেলেনি। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইসি এবং আধার কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

বুধবার এই সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে বৈঠকে বসেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে অশোক বলেন, ‘‘আমরা সব সমস্যার কথাই জানি। সেই কারণেই দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। অনলাইন ব্যবস্থা চালু হতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেই আমরা মনে করছি। সমস্যা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেটানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে।’’

তবে মন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও সার্ভার পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত রেশন দোকান বন্ধ রাখার পক্ষেই সওয়াল করছেন ডিলারদের একাংশ। গ্রাহকদের ক্ষোভ ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতেই এমন অবস্থান নিতে চাইছেন তাঁরা।

Ration Shop Food Minister

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy