আগামী বছর মে মাসের মধ্যে রাজ্যের অন্তত এক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেবে রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে সমবায় দফতরের নতুন আধিকারিকদের নিয়োগপত্র বিলির মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অতীতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যে সমস্ত ত্রুটি ও অনিয়ম হয়েছে, বর্তমান জমানায় তার পুনরাবৃত্তি হবে না। পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নবান্ন সভাঘরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ৪৯৬টি শূন্যপদে নিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বা নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার ৮৩৮টি পদই সম্পূর্ণ স্থায়ী এবং নিয়মিত। অর্থ দফতরে আরও কয়েক হাজার শূন্যপদের ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন দফতরের নিয়োগের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্কুল স্তরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে মোট ৩৩ হাজার ৪০৯টি শূন্যপদে নিয়োগ হতে চলেছে। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দফতরে নতুন করে নিয়মিত পদে ১২ হাজার ১৪৭ জনের চাকরি হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন বিভাগে শূন্যপদের সংখ্যা ৭ হাজার ১১৯। এ ছাড়াও কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে আরও ৫ হাজার ৪০৯টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই ১০ হাজার ২৩৩ জন পুলিশ কনস্টেবলকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মহিলা কনস্টেবলের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪। বুধবার সমবায় দফতরের ১৫০ জনেরও বেশি নতুন ইনস্পেক্টরের হাতেও নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্কুল, পুলিশ-সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগে অন্তত এক লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর হাতে আমরা নিয়োগপত্র তুলে দেব। সংখ্যাটা এক লক্ষের বেশি হতে পারে, কিন্তু কম হবে না— এটা এই সরকারের লিখিত দায়বদ্ধতা।”
নিয়োগকারী সংস্থাগুলির স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, পিএসসি, এসএসসি, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং স্টাফ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মতো স্বশাসিত সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে কাজ করছে। সরকার সেখানে বিন্দুমাত্র নাক গলাবে না। তাঁর কথায়, “বিগত দিনে পূর্বতন সরকার যে সমস্ত ভুলভ্রান্তি করেছে, তার পুনরাবৃত্তি এই সরকারের আমলে একবারও ঘটবে না— এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।” পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ বাঁও জলে পড়ে থাকত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগের দল যদি ক্ষমতায় থাকত, তবে মহালয়ার পর দিন নেতাজি ইন্ডোরে দাঁড়িয়ে যে ভাবে ১১ হাজার পুলিশকর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটা হত না। সবটাই ঝুলে থাকত, চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।”
প্রধানমন্ত্রীর ‘রোজগার মেলা’র মডেল অনুসরণ করেই বাংলায় নিয়োগপত্র বিলি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, নিয়োগের সুপারিশ আসার পর বড় কোনও অনুষ্ঠান বা ‘জব ফেয়ার’-এর মাধ্যমে দ্রুত প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছে।
দুর্গোৎসবের মুখে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুলিশ কনস্টেবলদের নিয়োগপত্র দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে এ দিন সমবায় ইনস্পেক্টরদের নথি তুলে দেওয়া হল। নির্বাচিত প্রায় দু’শো জনের মধ্যে অনেকেই অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ায় কিছু পদ ফাঁকা রয়েছে, বাকিদের পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হলেই ধাপে ধাপে ডেকে নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।