E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এ বার জনগণনার কাজেও শিক্ষকেরা, সঙ্কটে পঠনপাঠন

শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভা জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, শিক্ষকেরা জনগণনার কাজে যুক্ত না হলে আর্থিক জরিমানা বা জেল হতে পারে। এ বিষয়ে স্কুলগুলিকে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শককে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪২

— প্রতীকী চিত্র।

এসআইআর, অন্নপূর্ণা যোজনার কাজের পরে এ বার জনগণনার কাজেও সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য রাজ্যের বেশ কিছু স্কুল থেকে এত বেশি সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা চাওয়া হয়েছে যে, তাঁরা চলে গেলে স্কুলের পঠনপাঠন কার্যত লাটে উঠবে। কোনও স্কুলের কাছে শিক্ষকদের ৫০ শতাংশকেই জনগণনার কাজে চাওয়া হয়েছে। কোথাও আবার দু’-এক জন শিক্ষক বাদে বাকি সকলেরই ডাক এসেছে। এ দিকে, অগস্টেই রয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা এবং সেপ্টেম্বরে হবে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম ও তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা। এখন যদি শিক্ষকেরা জনগণনার কাজে চলে যান, তা হলে স্কুলে পড়াবেন কারা?

শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভা জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, শিক্ষকেরা জনগণনার কাজে যুক্ত না হলে আর্থিক জরিমানা বা জেল হতে পারে। এ বিষয়ে স্কুলগুলিকে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শককে। যদিও জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস সূত্রের খবর, পঠনপাঠনের স্বার্থে কিছু শিক্ষকের অব্যাহতি চেয়ে পুরসভাকে অনুরোধ করা হতে পারে।

বেলতলা গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অজন্তা মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, তাঁদের স্কুলে শিক্ষিকা ২৯ জন। তার মধ্যে ১৭ জনকেই জনগণনার কাজে নেওয়া হবে। অজন্তা বলেন, ‘‘যে ১৭ জনকে পাঠাতে হবে, তাঁদের মধ্যে কয়েক জন আছেন, যাঁরা একটি বিষয়ের একমাত্র শিক্ষিকা।’’ নারকেলডাঙা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভাস বিশ্বাস জানালেন, স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ২৯ জনেরই জনগণনার ডিউটি পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘১৫ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জনগণনার প্রশিক্ষণ হবে। যাঁরা প্রশিক্ষণ নেবেন, তাঁরা কি স্কুলে আসতে পারবেন? স্কুল থেকে বিএলও হিসাবে শিক্ষকদের নেওয়ার সময়ে বলা হয়েছিল, পড়ানোর পাশাপাশিই বিএলও-র কাজ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি।’’ বিভাস জানালেন, তাঁদের স্কুলের যে সমস্ত শিক্ষক বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন, তাঁদের এখনও সেই কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

হাটখোলার রামজয় শীল শিশু পাঠশালার প্রধান শিক্ষিকা শাশ্বতী সোম বললেন, ‘‘আমাদের স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষিকার মধ্যে ৩৩ জনেরই নাম রয়েছে জনগণনার কাজে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এখন পুরো ক্লাস হচ্ছে। এর পরে কি স্কুলে তালা পড়ে যাবে? এত বেশি সংখ্যক শিক্ষিকা না নেওয়ার জন্য রাজ্য সেন্সাস ডিরেক্টরেটকে চিঠি দিয়েছি।’’ শ্যামবাজারের শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক মানস দাসের কথায়, ‘‘আমাদের ৪০ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৭ জনকে নেওয়া হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অঙ্কের তিন জন, ইংরেজির দু’জন ও রসায়নের এক জন শিক্ষক আছেন। এঁদের সবাইকেই জনগণনার কাজে ডাকা হয়েছে। এক জন মাত্র ক্লার্ক আছেন। তাঁকেও নেওয়া হয়েছে।’’

ফুলবাগানের শুঁড়া কন্যা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুদেষ্ণা পালিত জানান, তাঁদের ৩৫ জন শিক্ষিকার মধ্যে ১৮ জনকে ডাকা হয়েছে। যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার বললেন, ‘‘৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩১ জনকে ডাকা হয়েছে। এর আগে শিক্ষকেরা এসআইআর-এর কাজে যাওয়ায় স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিভাবকেরা সরকারি স্কুলের উপরে আস্থা হারাচ্ছেন।’’

‘সেন্সাস কর্মী ঐক্য মঞ্চ’-এর সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সেন্সাস ডিরেক্টরকে চিঠি দিয়েছি। এ ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে।’’ যদিও জনগণনা ডিরেক্টরেট সূত্রের খবর, এটি একটি সাংবিধানিক কাজ। যাঁরা দায়িত্বশীল, তাঁদেরই এই কাজে নিয়োগ করা হবে। তাই শিক্ষকদের এই কাজে নেওয়া হচ্ছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Education system School Teachers West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy