পুলিশকে মারধর করে গ্রেফতার হলেন ট্র্যাফিক আইন ভাঙা তিন যুবক। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ হেস্টিংস মোড়ে। ধৃতদের নাম সাকির হোসেন, আমনকুমার সাউ এবং মুশারফ হোসেন। তিন জনেরই বাড়ি খিদিরপুরে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত রাতে নাকা তল্লাশি চলাকালীন। বিনা হেলমেটে মোটরবাইক চালানোর অভিযোগে দু’জনকে থামতে বলেছিলেন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ, না থেমে বরং দ্রুত গতিতে মোটরবাইক ছুটিয়ে পালাতে গিয়ে পুলিশের দিকে ধেয়ে যান তাঁরা। পুলিশকর্মীরা সরে গেলে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে উল্টে যায় মোটরবাইকটি। সেটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান মোটরবাইকের চালক ও আরোহী।
কিছু ক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন তিন যুবক। অভিযোগ, কেন পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেছে এবং মোটরবাইকটি আটকে রেখেছে, তা নিয়ে বচসা শুরু করেন। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সার্জেন্টকে কলার ধরে হুমকি দেন ওই যুবকেরা। তাঁকে মারধর করে উর্দি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এর পরেই সেখানে উপস্থিত পুলিশ তিন যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে হেস্টিংস মোড়ে থানার সঙ্গে যৌথ ভাবে নাকা তল্লাশি করছিলেন বিদ্যাসাগর ট্র্যাফিক গার্ডের অফিসারেরা। তাঁরা দেখেন, দুই যুবক হেস্টিংস মোড়ের দিকে বিনা হেলমেটে যাচ্ছে। ওই বাইককে থামানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্তেরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে যায়। পরে তিন জন ফিরে এসে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান ও মারধর করেন বলেও অভিযোগ।
লালবাজারের দাবি, পুলিশকর্মীদের থেকে বডি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তেরা। আহত ট্র্যাফিক পুলিশের সার্জেন্টকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছে। পুলিশকে মারধর, কাজে বাধাদান-সহ একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের অবশ্য দাবি, তাঁরা কাউকে মারধর করেননি।