E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দলের কর্মাধ্যক্ষের সমালোচনার মুখে তৃণমূলের জেলা পরিষদ

জেলা পরিষদ কোন ক্ষেত্রে ব্যর্থ, তা নির্দিষ্ট করে বলতে হত। সেটা আমার জানা নেই। কী জন্য এটা বলছেন, সেটা তাঁদের তুলে ধরা উচিত: রুবিয়া সুলতানা, সভাধিপতি।

সামসুদ্দিন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৯

—প্রতীকী চিত্র।

বিরোধীদল থেকে শুরু করে শাসকদলের সদস্য তো বটেই, কর্মাধ্যক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ল তৃণমূল পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ। সোমবার মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের চূড়ান্ত বাজেট ও সাধারণ সভা ছিল। সেখানে বাজেটের পরে সাধারণ সভাতে জেলা পরিষদের শাসক ও বিরোধীদলের কয়েক জন সদস্য দরপত্রে দুর্নীতি, ঠিকাদারাজ, বেহাল রাস্তা, অকেজো পথবাতি নিয়ে সরব হোন। আর মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সফিউজ্জামান হাবিব এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বৈঠকের ভিতরে বলেছেন, ‘জেলা পরিষদের কাজের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে গুণমানের সঙ্গে আপোস করছি বলে মনে হয়েছে। লাইট (পথবাতি) নিয়ে যে প্রশ্ন সেটা আমারও রয়েছে। আমার এলাকায় বেশ কিছু লাইট (পথবাতি) বসানো হয়েছে। যেদিন সকালে লাগানো হয়েছে, তার পরের দিন থেকে চলেনি। সেটা নিয়ে অনেক দরবার করা হয়েছে। আমি জেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্ণায়ক এক জন। তথাপিও আমার মধ্যে এক শতাংশ দ্বিধা নেই যে আমরা ফেলিওর, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ফেলিওর।’ যা শুনে বিরোধীদল কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্য তৌহিদুর রহমান সুমন সভাতেই বলেছেন, ‘কর্মাধ্যক্ষ যখন বলছেন জেলা পরিষদ ফেলিওর। তখন জেলা পরিষদ থেকে আপনারা পদত্যাগ করছেন না কেন?’ আবার মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান জেলা পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাব দিয়েছেন যে সব ঠিকাদার নিয়ম মেনে কাজ করবেন না তাঁদের যেন কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

পরে অবশ্য জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা বলেছেন, ‘‘জেলা পরিষদ কোন ক্ষেত্রে ফেলিওর তাঁকে নির্দিষ্ট করে বলতে হত। সেটা আমার জানা নেই। কী জন্য এটা বলছেন সেটা তাঁদের তুলে ধরা উচিত।’’ রুবিয়া আরও বলেন, ‘‘যে সব ঠিকাদার দীর্ঘ দিন ধরে কাজ ফেলে রেখেছেন তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।’’

বৈঠক শেষে জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সফিউজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা জেলা পরিষদের আত্মসমালোচনা করেছি। আমরাই সমাধান করব।’’

এ দিন জেলা পরিষদের ভগবানগোলার তৃণমূলের এক সদস্য বৈঠকে বলেছেন, ‘আমার এলাকার ৩৩০ মিটার নিকাশিনালা ২০২৪ সালের অনুমোদন হয়েছিল। সেই কাজ আজও শেষ হয়নি। ঠিকাদারকে বলতে গেলে তিনি বলছেন তাঁর পিছনে নাকি বড় নেতা রয়েছে।’ জেলা পরিষদের বেলডাঙার এক সদস্য আবার এসআরডিএ প্রকল্পের বেহাল রাস্তার কথা তুলে ধরেছেন।

জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সফিউজ্জামান বৈঠকে বলেছেন, ‘আমাদের জেলার বিটুমিনাসের কাজ ভীষণ খারাপ। ছ’মাস যায় না। ঠিকাদার সংস্থা কী করছে এগুলো আমাদের দেখা উচিত। রাস্তা খারাপ হলে মানুষ ছেড়ে কথা বলবে কেন?’’ সফিউজ্জামান নদিয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্কুলগুলিতে খেলাধুলায় জোর দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি সভাতে দাবি করেছেন, ‘নদিয়া জেলা পরিষদ স্কুলগুলিতে ফুটবল দিয়েছে। আমরাও কী ফুটবল দিতে পারি না।’

জেলা পরিষদের কংগ্রেসের সদস্য আব্দুল্লাহিল খাফি বলেন, ‘‘শুধু আমরা নই, শাসকদলের সদস্যেরাও সরব হয়েছেন। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ এ দিন বৈঠকেই বলেছেন জেলা পরিষদ ব্যর্থ।’’ মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, ‘‘ঠিকাদার সংস্থাগুলি নিয়ম মেনে কাজ না করলে তাঁদের কালো তালিকা ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছি। শুধু প্রস্তাব নয়, এটা বাস্তবে পরিণত করা হবে।’’ তবে আবু তাহের প্রস্তাব শুনে তৃণমূলেরই এক জেলা পরিষদ সদস্য বলেছেন, ‘‘আপনাদের ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা নেই।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
zilla parishad TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy