ডোবা থেকে উদ্ধার জোড়া মৃতদেহ। সম্পর্কে তাঁরা শ্যালক এবং ভগ্নিপতি। দু’জনকে খুন করে ডোবার কচুরিপানা চাপা দেওয়ার অভিযোগ করল পরিবার। কোচবিহারের সিতাই থানার ছাট সিঙিমারি এলাকার ঘটনা। এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ছাট সিঙিমারি এলাকার বাসিন্দা মনিরুল মিঞা এবং তাঁর ভগ্নিপতি মমিন মিঞা গত বুধবার কাজের সূত্রে দিনহাটা গিয়েছিলেন। রাত ১২টা নাগাদ এলাকায় ফেরেন। কিন্তু বাড়িতে ঢোকেননি। রাতে বাড়ি না ফেরায় তাঁদের খোঁজ শুরু করে পরিবার। পরের দিন গ্রামবাসীরাও খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি দু’জনকে। তখন থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাড়ির পাশে কলাবাগানে শ্যালক-ভগ্নিপতির জুতো জোড়া দেখতে পান বাড়ির লোকজন। সকলের সন্দেহ হয়। গ্রামবাসীদের ডেকে ডোবায় নেমে কচুরিপানা সরাতে থাকেন বাড়ির লোকজন। তখনই দুটো দেহ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ডোবায় রাতে অনেকে মাছ ধরতে যান। সেখানে মনিরুল এবং মমিন কী করছিলেন, জানা যায়নি। তা ছা়ড়া, দু’জনের দেহ ঘন কচুরিপানার ভিতরে কী করে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, তাঁদের খুন করে কচুরিপানা চাপা দেওয়া হয়েছিল। ওই মর্মে থানায় অভিযোগ করেছে তারা।
আরও পড়ুন:
তদন্তে নেমে আমিনুর মিঞা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মৃত মনিরুলের দাদা দাদা জাহানুর মিঞা বলেন, ‘‘ভটভটি নিয়ে দিনহাটায় ভাড়ার জিনিসপত্র দিতে গিয়েছিল ওরা। বুধবার স্থানীয় একজনের বাড়িতে ভটভটি রেখে আসে। তার পর থেকেই আর দু’জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতের দিকে (বৃহস্পতিবার) বাড়ির পাশে ডোবা থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘যে ডোবা ওদের দেহ পাওয়া গিয়েছে সেই ডোবার মালিক রাতে মাছ ধরার ঠেকাতে বিদ্যুতের তার রেখেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জন মারা গিয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে।’’